ঢাকা শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১

পেয়েছে পাঠকের প্রশংসা

বইমেলায় এসেছে ফারহান শিব্বির-এর 'হাওয়ায় ওড়া দীর্ঘশ্বাস'


১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৪৮

আপডেট:
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৫৩

ছবি: আমাদের দিন

লেখালেখি শৈশব থেকেই। আমাদের মাসিক বাংলা সাহিত্য ক্লাস থেকেই আমার লেখার হাতেখড়ি। সেই ক্লাসগুলোতে আমি নিজের কলমকে একটি অস্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করতাম, যেন তা আরও ধারালো ও মজবুত হয়। প্রতিটি ক্লাসে আমি নতুন করে শিখতাম এবং নিজের লেখাকে পরিমার্জিত করার চেষ্টা করতাম। তখন থেকেই ছোট গল্প লিখতাম, তবে উপন্যাস লেখার প্রতি আমার ঝোঁক ছিল প্রবল।

আমার আগ্রহ ছিল। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কবিতা নিয়ে আলোচনা হতো। মুহূর্তের মাঝেই কত সুন্দর কবিতা বলা যায়, তা নিয়ে আমরা মেতে উঠতাম। যার কবিতা সুন্দর হতো, সে বাহবা কুড়িয়ে নিত। কবিতা লেখা এবং বলা আমার জন্য এক ধরনের মুক্তির অনুভূতি বয়ে আনত।

ফেইসবুকে লেখালেখি শুরু করি "রাজনন্দিনী" নামে একটি উপন্যাস দিয়ে। উপন্যাসটি ৭ম পর্ব পর্যন্ত ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু কারণে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে আমি গল্প লিখলেও সেগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করিনি। এভাবেই আমার লেখা গল্পগুলো জমা হতে থাকে।

হঠাৎ মনে হলো, আমার লেখা গল্পগুলো যেন হাজার বছর মানুষের মাঝে বেঁচে থাকে। বই আকারে প্রকাশ হলে তখন আর হারানোর ভয় থাকবে না। এই ভাবনা থেকেই আমার প্রথম বই "হাওয়ায় ওড়া দীর্ঘশ্বাস" প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিই।

প্রথম প্রকাশ হয় অক্টোবর ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৫ সালের অমর একুশে বই মেলায় বইটির দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। বইটি ছায়া প্রকাশনির ৭৫১-৭৫২ নং স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। বইটি প্রকাশের পর পাঠকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি, যা আমাকে আরও লেখার অনুপ্রেরণা জোগায়।

আমি চাই আমার লেখা যেন মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। ভবিষ্যতে আরও গল্প, উপন্যাস এবং কবিতা লিখতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো বাংলা সাহিত্যে একটি স্থায়ী ছাপ রাখা এবং মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া। 

যদি বইয়ের সারসংক্ষেপ নিয়ে একটু বলি—

রাতের শহরটা এক অদ্ভুত নির্জনতা বয়ে বেড়াচ্ছিল। রাস্তার বাতিগুলো নিস্তব্ধ আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল, যেন তারা কোনো অদৃশ্য রহস্যের সাক্ষী। সেই রাস্তায় একলা হেঁটে চলেছে রিফাত। পায়ে হাওয়া লাগিয়ে, গায়ে হলুদ পাঞ্জাবি, আর হাতে একটা পুরোনো বই। বইটা কী, সে নিজেও জানে না- শুধু অনুভব করে যে এই বইটার মধ্যে এক গভীরতা আছে, যার শেষ নেই।

রিফাতের পরিচিতি অনেকটা অদ্ভুত। সে কাউকে চিনে না, কেউ তাকে চেনে না। তবুও সে যেন সবকিছু জানে। শহরের আনাচে-কানাচে, বাতাসের গুঞ্জন, মানুষের মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা কথা- সবকিছুই তার জানা। তার চারপাশে এক অদ্ভুত রহস্যময় পরিবেশ। কেউ বলে সে পাগল, কেউ বলে দার্শনিক। কিন্তু রিফাত নিজেকে কী ভাবে, সেটা শুধু সে-ই জানে।

রিফাতের জীবনটা একেবারেই সাদামাটা। সে কোনো চাকরি করে না, কোনো দায়িত্ব নেয় না, কোনো বাধ্যবাধকতা মানে না। শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো, মানুষের মধ্যে না থেকেও তাদের অনুভূতির মধ্যে ঢুকে পড়া, এসবই তার জীবনের অংশ।

রিফাতের জীবনে একমাত্র ব্যতিক্রম হল নীরা। নীরা হলো রিফাতের জীবনের একমাত্র মানুষ, যাকে সে নিজে বেছে নিয়েছে। নীরা একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, খুব সাধারণ মেয়ে, কিন্তু তার মধ্যে আছে এক অদ্ভুত মাধুর্য। নীরা যখন হেসে ওঠে, তখন মনে হয় পুরো পৃথিবীটা হাসছে। নীরা খুবই সাদাসিধা পোশাক পরে, কিন্তু তার সহজ-সরল ভাবেই সে নিজেকে অসাধারণ করে তোলে। তার চলাফেরায় আছে এক ধরনের স্বাভাবিকতা, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। নীরা যখন হাঁটে, তখন মনে হয় তার পায়ের নিচের জমি যেন নিজে থেকে পিছু হটে তাকে জায়গা করে দিচ্ছে। সে যখন কথা বলে, তার কণ্ঠের মাধুর্য অন্যদের মুগ্ধ করে। নীরার হাসি এক অদ্ভুত আনন্দের ঝিলিক এনে দেয়। রিফাতের কাছে নীরার হাসি পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর জিনিস। সে মনে করে, নীরা হাসলেই যেন পুরো পৃথিবীটাই হাসছে। নীরার এই হাসিতে এমন এক উষ্ণতা আছে যা রিফাতকে সবসময় তার কাছে টেনে রাখে। নীরার উপস্থিতি 


বইমেলা ২০২৫, ফারহান শিব্বির