ঢাকা বুধবার, ১৩ই মে ২০২৬, ৩১শে বৈশাখ ১৪৩৩


নবাবগঞ্জের হরিপুর বিট অফিসে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের


প্রকাশিত:
১৩ মে ২০২৬ ১৮:১৫

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর বিট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বন বিভাগের জমি ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বাগান মালী মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ আমিনুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের জমি রক্ষা ও সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রভাবশালী দখলদারকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বন বিভাগের সৃজনকৃত বাগানের উপকারভোগী তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, উপকারভোগী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন, তালিকায় তাদের নাম নেই।
ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের বলেন, “উপকারভোগী করার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে দেখি তালিকায় নাম নেই। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বন বিভাগের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।”

স্থানীয়দের দাবি, জাহানপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় মোঃ আমিনুল ইসলাম প্রায় এক কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তবে তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোঃ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি পক্ষ আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।”

হরিপুর বিট কর্মকর্তা সামছুল হক বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিরামপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”