কিশোরগঞ্জে চাহিদার চেয়েও বেশি কোরবানির পশু: ভারতীয় গরু না এলে লাভের স্বপ্ন খামারিদের
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। গরু মোটাতাজাকরণ, পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতিতে দিন-রাত কাজ করছেন তারা। খামারিদের আশা, ভারতীয় গরু আমদানি না হলে এ বছর দেশীয় খামারিরা ভালো লাভের মুখ দেখবেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি গবাদিপশু। এর বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি পশু। ফলে চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত থাকবে প্রায় ৩৯ হাজার ২২১টি পশু।
জেলায় মোট ৫৩৩টি খামারে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ষাঁড় ৭৫ হাজার ২৬৭টি, বলদ ৪ হাজার ১৩৪টি, গাভি ১৭ হাজার ৮৮৬টি, মহিষ ৩ হাজার ৮৩৬টি, ছাগল ৮৪ হাজার ৯৪৩টি এবং ভেড়া ৫ হাজার ২৯৮টি।
স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা জানান, দুধ উৎপাদনের পাশাপাশি উন্নত জাতের গবাদিপশু পালন এখন অনেকের জন্য লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে ছোট ছোট খামারের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক খামারও।
করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের জেসি এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিয়াদ মিয়া বলেন, “আমাদের খামারে বর্তমানে প্রায় ২৫০টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে ১৫০টি ষাঁড়। দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করায় কোরবানির আগেই প্রায় ৮০ শতাংশ গরু বুকিং হয়ে গেছে। তবে খাদ্য ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার দামও কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে।”
সদর উপজেলার নতুন খামারি রবিন মিয়া বলেন, “আমি এ বছর ৫টি গরু দিয়ে খামার শুরু করেছি। বাজার ভালো থাকলে লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি।”
অন্যদিকে, অনেক ক্রেতাও এখন সরাসরি খামার থেকে পশু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আবুল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, “হাট থেকে গরু কিনলে হাসিলসহ বাড়তি খরচ হয়। খামার থেকে কিনলে সেই খরচ বাঁচে, পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান জানান, “প্রতি বছর কোরবানির চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়। এ বছর বাজার ভালো থাকলে প্রায় হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। কিশোরগঞ্জের পশু প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দেশের বিভিন্ন জেলার কোরবানির হাটে সরবরাহ করা হবে, যা জেলার অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
