ঢাকা সোমবার, ১১ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


গাজীপুরে ৫ হত্যাকাণ্ড

৪ জনকে গলা কেটে ও ১ শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার বিভৎস বর্ণনা চিকিৎসকের


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২৬ ১৯:৪৩

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, অত্যন্ত নির্মম ও সুপরিকল্পিতভাবে এই পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

আজ সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. মাজহারুল হক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শারমিন খানম (স্ত্রী), রসুল মোল্লা (শ্যালক) এবং দুই বড় মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশেও ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে ছোট মেয়ে ফারিয়াকে হত্যার পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। তাকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

চিকিৎসক মাজহারুল হক আরও জানান, স্ত্রী শারমিন খানমকে হত্যার আগে তার দুই হাত ও মুখ শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এরপর তার ওপর পৈশাচিক কায়দায় অস্ত্র চালানো হয়।

চিকিৎসকদের ধারণা, নিহতরা খুনের আগে কোনো প্রতিরোধ কেন গড়ে তোলেনি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না নিশ্চিত হতে নিহতদের পাকস্থলীর খাবার, ঘটনাস্থলে পাওয়া রান্না করা সেমাই এবং একটি নেশাজাতীয় দ্রব্যের বোতল সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ল্যাবের রিপোর্ট এলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুততম সময়ে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে শারমিন খানমের বাবা বাদী হয়ে তার জামাতা ফোরকান মোল্লাকে (৪০) প্রধান আসামি করে এবং আরও অজ্ঞাত চারজনের নামে হত্যা মামলা করেছেন। মূল অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে সিআইডি, পিবিআই ও পুলিশের একাধিক ইউনিট সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভবনের নিচতলার দুটি কক্ষ থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা সবাই গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে এসে জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে বসবাস করতেন। পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ফোরকান। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহের পাশে একটি চিরকুট রেখে যায় ঘাতক, যেখানে সে নিজেই সবাইকে মেরে ফেলার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে একটি লিখিত কাগজও সেখানে পাওয়া গেছে।