ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


বাম্পার ফলনেও নেই স্বস্তি, ধানের দাম কমে দিশেহারা কৃষক


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২৬ ১২:২৪

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও কৃষকের মুখে নেই হাসি। মাঠজুড়ে পাকা ধানের সমারোহ থাকলেও ধানের কম দাম, শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত মজুরি ও অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে ধানের দাম আশানুরূপ না হওয়ায় খরচের টাকাই তুলতে পারছেন না তারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। বিশেষ করে শওগুন খোলা ও আশপাশের গ্রামের মাঠগুলোতে সোনালি ধানে ভরে উঠেছে চারদিক। তবে এরই মধ্যে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় নিচু জমিতে পানি জমে ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

শওগুন খোলা গ্রামের কৃষক দিলদার আলী বলেন, “মাঠের ধান পেকে গেছে। এর মধ্যে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। নিচু জমিতে পানি বেশি হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে, কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। গত বছর এ সময়ে প্রতি মণ ধান ১২০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন ১০০০ থেকে ১০৫০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে খরচের টাকাই উঠছে না।”

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে একজন ধান কাটার শ্রমিকের জন্য ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় একই দামে। ফলে এক মণ ধানের দাম দিয়েই একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক হারুনর রশীদ বলেন, “ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। হালচাষ, সেচ, সার ও কীটনাশক—সব কিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধার-দেনা ও ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”

কৃষকদের দাবি, গত কয়েক বছরে কৃষি উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম না বাড়ায় তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অনেক কৃষক হতাশ হয়ে পড়েছেন।

কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে বাজারে ধানের দাম বাড়বে এবং তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন। অন্যদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকদের হতাশা আরও বাড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।