ঢাকা সোমবার, ১১ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


আশাশুনিতে লোনাপানি তুলে ১০ হাজার বিঘা ধানের জমি প্লাবিত: প্রতিকার চেয়ে ইউএনও’র নিকট স্মারকলিপি


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২৬ ১৯:২০

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কালকি স্লুইসগেট দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে লোনাপানি প্রবেশ করানোর ফলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে।এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার হাজার হাজার কৃষক।

এই সংকট নিরসনে এবং লোনাপানি প্রবেশ বন্ধের দাবিতে সোমবার (১১ মে) বেলা ১২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর পক্ষে বাংলাদেশে লিঙ্গ-সংবেদনশীল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (GRDRRIB) প্রকল্পের আনুলিয়া ইউনিয়নের নারী নেতৃত্বাধীন "সংগ্রামী বেড়ি-বাঁধ সুরক্ষা দল" এর সভাপতি আফরোজা খানমের নেতৃত্বে কোষাধ্যক্ষ সালমা খাতুন, সদস্য রোজিনা খাতুন ও আনজুয়ারা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে একদল দুর্বৃত্ত নিজেদের কায়েমি স্বার্থে আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের কালকি স্লুইসগেটের পাট বসিয়ে দিয়ে কপোতাক্ষ নদের লোনাপানি বিলে প্রবেশ করিয়েছে। এতে গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া ও ফটিকখালীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ধান পুরোপুরি কাটার আগেই নোনা পানিতে তলিয়ে গেছে। খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারে নিয়মিত লোনা পানি প্রবেশের ফলে বর্তমানে এসব জমিতে আউশ চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে নারী নেতৃত্বাধীন বেড়ি-বাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা জানান, লোনাপানির প্রভাবে শুধু ধান নয়, পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছে এবং মাঠের ঘাস নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া পুকুর ও জলাশয়ে লোনাপানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের রান্নাবান্না ও গোসলের উপযোগী মিষ্টি পানির তীব্র হাহাকার শুরু হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে নারী নেতৃত্বাধীন বেড়ি-বাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা আরো জানান, একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী মহল বিলে মাছ ধরা ও মৎস্য ঘেরে পানি তোলার উদ্দেশ্যে স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে স্লুইসগেটের পাট বসিয়ে দিয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে এই জনপদকে দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

নারী নেতৃত্বাধীন বেড়ি-বাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা স্মারকলিপিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধান দুটি দাবি তুলে ধরা হয়: ১. অবিলম্বে কালকি স্লুইসগেট দিয়ে লোনাপানি প্রবেশ স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। ২. স্লুইসগেট তদারকির জন্য স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও কৃষকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা।

নারী নেতৃত্বাধীন বেড়ি-বাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। উপজেলা প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্লুইসগেটটি সংস্কারের আশ্বাস দেবেন বলে সাধারণ কৃষিজীবীরা আশা করছেন।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানান আনুলিয়া ইউনিয়নের নারী নেতৃত্বাধীন বেড়ি-বাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা।

প্রসঙ্গ: এমবাসি অব সুইডেন ঢাকা ও ইউএন উইমেন এর সহযোগিতায়, এএফএডি, এএসডিডিডব্লিউ ও বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন কর্তৃক সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলাদেশে লিঙ্গ-সংবেদনশীল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।