ঢাকা সোমবার, ১১ই মে ২০২৬, ২৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


গাজীপুরে চোর সন্দেহে ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা: ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২৬ ২০:০৩

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গণপিটুনির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন এবং হাসপাতালে ভর্তির পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন—গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নিজমাওনা গ্রামের সরাফত আলীর ছেলে আজহারুল ইসলাম (৩৫), সিলেট সদর থানার মোস্তাক মিয়া কলোনি এলাকার কমল কান্তের ছেলে কৃষ্ণ (৪০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার কলাগাজী গ্রামের মো. বারেকের ছেলে মো. সেলিম।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার বাহাদুর মিয়া ও আবু বক্করের গরুর খামারে চুরির উদ্দেশ্যে একদল সঙ্ঘবদ্ধ চোর হানা দেয়। গ্রামবাসী বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করলে চোর চক্রটি দুটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

এ সময় এলাকাবাসী একটি পিকআপ ভ্যানসহ তিনজনকে আটকে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। উত্তেজিত জনতা চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে চাইলেও উত্তেজিত জনতা তাদের বাধা প্রদান করে।

পরে খবর পেয়ে ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কারোরই প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, "গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।"

এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করায় এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।