চরখোর্দ্দার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ
এটি কোনো পর্যটন স্পটের নয়নাভিরাম দৃশ্য নয়, বরং প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা-র তারাপুর ইউনিয়ন-এর খোর্দ্দা ও চরখোর্দ্দা গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় একটি ভাঙাচোরা বাঁশের সাঁকোই এখন হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই সাঁকো পার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁকোটির ওপারে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। সামান্য অসাবধানতা কিংবা পা ফসকালেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসী জানান, অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কৃষিপণ্য হাট-বাজারে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে হয় কৃষকদের। এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ হয় ভুট্টা, মরিচ, পিয়াজ, তামাক, পাট, তরিতরকারিসহ নানা অর্থকরী ফসল। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে এসব কৃষিপণ্য বাজারে আনতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয় কৃষকদের। বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে মাথায় বা কাঁধে করে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। এতে সময় ও শ্রমের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আর খোঁজ থাকে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলওয়ার হোসেন বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা কষ্ট করে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। অনেকবার জনপ্রতিনিধিদের বলেছি, কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি।”
আরেক বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম সুমন বলেন, “নির্বাচনের সময় সবাই প্রতিশ্রুতি দেয় সেতু করে দেবে। কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ ফিরে তাকায় না। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, “আমরা একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য চেষ্টা করছি। উপর মহলে বার বার যোগাযোগ করতেছি, আশা করছি খুব দ্রুত একটি ব্যবস্থা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হোক। তাদের মতে, একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
