ঢাকা রবিবার, ২৬শে জুলাই ২০২৬, ১২ই শ্রাবণ ১৪৩৩


পল্লবীতে সরকারি জমি উদ্ধারে গিয়ে তোপের মুখে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট, ধাওয়া খেয়ে পিছু হটার দৃশ্য ভাইরাল


প্রকাশিত:
২০ মে ২০২৬ ১৭:০৩

রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকায় সরকারি জমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে স্থানীয় বস্তিবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পিছু হটতে দেখা যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের।

বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টার দিকে কালসী স্টিল ব্রিজ ও সুইচ গেট এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দখল হওয়া জমি উদ্ধারে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উচ্ছেদকারী দলের ওপর অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে তারা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খেয়ে এক পর্যায়ে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা পিছু হটতে বাধ্য হন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বেশ কিছু দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জমি উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হামলার শিকার হয়েছেন। ইটপাটকেলের আঘাতে আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।” তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, বাউনিয়াবাধ এলাকার প্রায় ৫০ বিঘা সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহল ও স্থানীয়দের দখলে ছিল। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, মাদক স্পট ও রাজনৈতিক ক্লাব। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে গিয়েই স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে প্রশাসন।

পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা এবং ধাওয়া খাওয়ার ঘটনার পর সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত করা হলেও, দুপুরের খাবারের বিরতির পর পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারি জমি উদ্ধারের এই অভিযান কতদূর সফল হবে, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে এখন চলছে নানা আলোচনা।