যৌতুক মামলায় দিনাজপুর ডিসির দেহরক্ষী কারাগারে!
যৌতুক মামলায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের দেহরক্ষী পুলিশ সদস্য সিরাজুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার ১৮ মে সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী হাবীবুল ইসলাম হাবীব।
এর আগে, মামলার শুনানি শেষে গত বুধবার তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন আমলি আদালত-২ এর বিচারক মোঃ মোস্তাকিম ইসলাম।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় পৌরসভার তেলিপাড়া এলাকার মোবারক হোসেনের মেয়ে মাহাবুবা সুলতানা মায়ার সঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার রুহিয়া কনি কশালগাও এলাকার ইন্তাজুল ইসলামের ছেলে পুলিশ সদস্য সিরাজুল ইসলামের বিয়ে হয় ২০২৪ সালের ১৮ জুন।
বিয়ের পর থেকে সিরাজুল পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে যৌতুকের জন্য স্ত্রী মায়াকে অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। পরে এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়।
এতে সুরাহা না হওয়াতে আমলি আদালত-১ এ একটি যৌতুক মামলা এবং পারিবারিক আদালতে দেনমোহরানা ও খোরপোশের মামলা দায়ের করেন বাদী মাহবুবা সুলতানা মায়া। পরে আপোশ মীমাংসা করবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করিয়ে নেন চলতি বছরের-৬-জানুয়ারিতে। পরে একটি ইজিবাইকে উঠে জেলা শহরের মিলগেট বাজার এলাকায় একটি দোকানে নাস্তার খাবার সময় একটি ফাঁকা স্ট্যাম্প স্বাক্ষর নেন।
এসময় জানান, তার দফতরে আপসের কাগজ জমা দিতে হবে। পরে আসামি সিরাজুল স্ত্রীকে তার বাবার কাছ থেকে-৬-লাখ টাকা যৌতুক দিতে বলেন। নাহলে স্বাক্ষর নেওয়া কাগজে স্বেচ্ছায় তালাক দিয়েছে মর্মে প্রচার করা হবে। পরে মিলগেট বাজারে বাদীকে রেখে চলে যায় আসামিরা।
এসময় বাদীকে আসামি সিরাজুল বলেন, যৌতুকের টাকা না দিলে তিনি অন্যত্র বিয়ে করবেন। পরে এ নিয়ে চাপাচাপি করলে বাদীর স্বাক্ষর জাল করে একটি স্ট্যাম্প ফেরত দেন। পরে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি আবারও একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় পরবর্তীতে জেলহাজতে যান আসামি সিরাজুল ইসলাম। পরে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পান তিনি।
গত ১৩ মে বুধবার মামলায় আসামি সিরাজুলের আদালতে ধার্য হাজিরের দিন ছিল। সেদিন তিনি আদালতে জামিন আবেদন করলে বাদী বাতিলের আবেদন করেন। পরবর্তী আদালত বিগত মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আইনজীবীদের শুনানি শেষে আসামি সিরাজুল ইসলামকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
