ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বাগান, সর্বস্ব হারানোর পথে পত্নীতলার আম চাষিরা
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে। গত রাতের আকস্মিক ঝড়ে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার আম বাগানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার বেশ ক'জন আম ব্যবসায়ী, যারা প্রায় ১২ একর জমি লিজ নিয়ে আমের বাগান চাষ করেছিলেন। ঝড়ে তাদের বাগানের অধিকাংশ গাছের দুই-তৃতীয়াংশ আমই মাটিতে ঝরে পড়েছে। পুঁজি হারিয়ে এখন তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার পথে।
স্থানীয় আম চাষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন পত্নীতলার আম চাষিরা। বিশেষ করে উপজেলার ৩ জন বড় ব্যবসায়ী যৌথ ও এককভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন। জমি লিজ নেওয়া, বছরজুড়ে বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ এবং শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে ইতোমধ্যে তাদের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমের গুটি বড় হওয়ার পর থেকে তারা বাগান পাহারা ও পরিচর্যায় দিনরাত পার করছিলেন। আর মাত্র কিছুদিন পরেই আম বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শুরু হতো। কিন্তু গত রাতের হঠাৎ ধেয়ে আসা ঝড় ও দমকা হাওয়া সব ওলটপালট করে দিয়েছে। সকালে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের সিংহভাগ আম মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ ও আর্তি প্রকাশ করে বলেন, "ধার-দেনা ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে আমরা এই বাগানগুলোতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। ঝড়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন খরচের আসল টাকাই কীভাবে উঠবে, আর পাওনাদারদের দেওয়াই বা কীভাবে শোধ করব— তা ভেবে আমরা দিশেহারা।"
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় উৎসুক জনতা ও অন্য চাষিরা বাগানগুলো পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই অঞ্চলের আম অর্থনীতির ওপর অনেকের জীবিকা নির্ভরশীল। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আম চাষিদের টিকিয়ে রাখতে প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের দ্রুত এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি অনুদান বা সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
