ঢাকা বুধবার, ২০শে মে ২০২৬, ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


খুলনা মেডিক্যালে আগুন: সরিয়ে নেওয়ার সময় আইসিইউয়ের রোগীর মৃত্যু


প্রকাশিত:
২০ মে ২০২৬ ১৬:৫২

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার পর রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার সময় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে লাফিয়ে পড়ে এবং আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন নার্সসহ পাঁচ জন।

বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

মারা যাওয়া রোগী নাসরিন নাহার হাসপাতালের আইসিইউতে ছিলেন। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে।

আহতরা হলেন– হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন। তৌহিদ নামে ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্যও আহত হয়েছেন।

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, ‘পুরনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগে। সেখানে পুরনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার মধ্যে আমরা রোগীদের স্থানান্তর করছিলাম। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে নাসরিন নাহার নামে রোগীর স্বজনরা তাকে নিজেরাই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাইরে নেওয়ার পর সেই রোগী মারা যান। আইসিইউ থেকে রোগী স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ভেন্টিলেশন খুলে নিজেরা নেওয়ার চেষ্টার কারণে ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’

জানা গেছে, ভোরে হাসপাতালে আগুন লাগার সময় রোগী ও স্বজনরা ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিস্ফোরণের শব্দে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা শয্যা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েন। হাসপাতালের সামনের মাঠ ও সড়কে ভিড় করেন তারা। সে সময় ভয়ে ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মাসুদ বলেন, ‘বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।’