ঢাকা বুধবার, ২০শে মে ২০২৬, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ইরানে বড় হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের: লক্ষ্য পরমাণু কেন্দ্র ও খারগ দ্বীপ দখল


প্রকাশিত:
১৬ মে ২০২৬ ১৫:০২

গত মাসের যুদ্ধবিরতির রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে আগামী সপ্তাহেই দেশটিতে বড় ধরনের যৌথ হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রকাশিত ছবিতে ইতিমধ্যে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর এফ-১৫ ফাইটার জেটগুলোকে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করতে দেখা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এবারের অভিযানের পরিকল্পনা আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী ও সুদূরপ্রসারী। সম্ভাব্য এই অভিযানে ইরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্রগুলো থেকে সরঞ্জাম উদ্ধারের জন্য সরাসরি ‘কমান্ডো বাহিনী’ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং এতে প্রাণহানির উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, অভিযান এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে হবে, যার ফলে ইরানি স্থলবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, কেবল পরমাণু কেন্দ্র নয়, বরং পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনাও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই দ্বীপটি কবজায় নিতে পারলে ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। এছাড়া অন্য একটি বিকল্প হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোগুলোতে আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ ও নিবিড় বোমাবর্ষণ করার ছক আঁকা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি দূর করতেই তারা এই অভিযান শুরু করেছিল। তবে গত মাসের যুদ্ধবিরতির ফলে তাদের ঘোষিত সেই লক্ষ্যগুলো এখনো অপূর্ণ থেকে গেছে। বিশেষ করে ইরানি জনগণের মধ্যে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি ‘পরিবেশ তৈরি’ করে দেওয়াকে এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসরায়েল। সেই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতেই পুনরায় এই সর্বাত্মক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সপ্তাহের এই সম্ভাব্য অভিযান শুরু হলে তা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে। এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হামলা মোকাবিলায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত এই কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।