বটিয়াঘাটায় সংখ্যালঘু পরিবারের দোকান দখলের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৩ নম্বর গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের গাঙ্গের গোড়া এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের দোকান জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা নিত্যানন্দ মহালদার দীর্ঘদিন ধরে “মেসার্স গোসাই এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। ওই প্রতিষ্ঠানে কিটনাশক, হার্ডওয়্যার, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিক্স, ফটোকপি, লেমিনেশন ও স্টুডিওসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার দোকানের বারান্দা ভাঙচুরের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে ৮ আগস্ট রাতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন সভাপতির বাবা রাজ্জাক সরদার দোকান দখলের উদ্দেশ্যে লুটপাট চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
নিত্যানন্দ মহালদার জানান, সে সময় তিনি সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেনাবাহিনী ঘটনার সত্যতা পায়। পরে বিষয়টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসলামের মাধ্যমে মীমাংসার কথা থাকলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে বিচারকার্যের দায়িত্ব জাহিদুলের ওপর দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল অভিযুক্তরা তার জায়গার ওপর মাটি ফেলে দখলের চেষ্টা চালায় বলে দাবি করেন নিত্যানন্দ। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে গালিগালাজ করা হয়। পরে তিনি বটিয়াঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই রুইল ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি ভরাটে বাধা দেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, পরে থানায় বসাবসির সময় বটিয়াঘাটা থানার ওসি রাজ্জাক সরদারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি যদি ওই জায়গায় যেতে চান, তাহলে তার ক্রয়কৃত এক লাখ টাকা ফেরত দিয়ে যাবেন।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শ্রী ব্রজেন ঢালী বিষয়টি জানার পর দলের সদস্য সচিব মো. আজাদের ওপর মীমাংসার দায়িত্ব দেন। তিনি নিত্যানন্দের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে পরে ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রভাবশালীরা পুলিশকে ম্যানেজ করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
