আতঙ্কের নগরী খুলনা: একের পর এক খুন, গুলাগুলি ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব
গত এক মাসে খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধারাবাহিক হত্যা, গুলাগুলি, কুপিয়ে জখম, সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অধিকাংশ ঘটনার পেছনে রয়েছে মাদক ব্যবসা, পূর্ব শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব।
সম্প্রতি খুলনা মহানগরীর ডাকবাংলা মোড়ে শ্রমিক দল নেতা মাসুম বিল্লাহকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। রাতের ব্যস্ত সময়ে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এর আগে দৌলতপুর এলাকায় রাশিকুল ইসলাম রাসু নামে এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। দিনের বেলায় ব্যস্ত এলাকায় এ হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায় “ডাব্লিউ” নামে পরিচিত এক ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা ৮ থেকে ১০ জন অস্ত্রধারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে ওই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন।
এদিকে কয়রা উপজেলায় ভবতোষ মৃধা নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলায় তার স্ত্রীও গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা জানান, দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে এ হামলা চালায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
রূপসা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত হলেই বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রধারীদের চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং প্রায়ই ফাঁকা গুলি ও মহড়ার ঘটনা ঘটে।
খালিশপুর, খানজাহান আলী, দৌলতপুর ও সোনাডাঙ্গা এলাকাতেও সম্প্রতি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, খুলনায় বর্তমানে কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের মধ্যে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষ হচ্ছে। পুলিশ বলছে, সন্ত্রাসীদের ধরতে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, প্রকাশ্যে হত্যা ও গুলাগুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। দ্রুত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
