ঢাকা শুক্রবার, ১৫ই মে ২০২৬, ২রা জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


বেইজিংয়ে বিশ্ব রাজনীতির মহানাটক: ট্রাম্পের সফরের মধ্যেই পুতিনের চীন যাত্রার ঘোষণা


প্রকাশিত:
১৪ মে ২০২৬ ২১:২৭

বিশ্ব রাজনীতির স্নায়ুকেন্দ্র এখন বেইজিং। দীর্ঘ এক দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক চীন সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক কূটনৈতিক চমক দিলো ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খুব শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে মস্কো।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, পুতিনের বেইজিং সফরের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহেই এই হাই-প্রোফাইল সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগে পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিং সফর করেছিলেন।

এদিকে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ট্রাম্পকে বহনকারী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গত প্রায় ১০ বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম চীন সফর।

বৃহস্পতিবার দিনভর শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিবিড় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ট্রাম্প এই আলোচনাকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আলোচনায় মূল অগ্রাধিকার পেয়েছে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং চলমান ইরান সংকট।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই ঐতিহাসিক সফরটি গত মার্চ মাসেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আকস্মিক ভয়াবহতা বৃদ্ধির কারণে ট্রাম্প সেই সফর পিছিয়ে মে মাসে পুনর্নির্ধারণ করেন। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বিশেষ চা-চক্র ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার পর ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে বেইজিং ত্যাগ করবেন ট্রাম্প।

একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফর, অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের সফরের ঘোষণা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বেইজিংকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। ওয়াশিংটন এবং মস্কোর সঙ্গে চীনের এই ভারসাম্যপূর্ণ সমীকরণ বিশ্ব রাজনীতিতে বেইজিংয়ের প্রভাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

পুতিনের আসন্ন সফরে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যৌথ কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।