ঢাকা বুধবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ই ফাল্গুন ১৪৩২


যান্ত্রিক নগরে ভালোবাসার ইফতার: রাজপথে স্বস্তির পরশ ছড়াচ্ছে ‘রহিমা মোজাফফর ফাউন্ডেশন’


প্রকাশিত:
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৪

ইটের পর ইট গাঁথা এই যান্ত্রিক নগরীতে দিন শেষে যখন গোধূলির আলো মিলিয়ে যায়, আর চারদিকে রোজাদারদের ঘরে ফেরার তীব্র তাড়া— ঠিক তখনই যানজটের ক্লান্তিতে হাঁসফাঁস করেন অসংখ্য মানুষ। ইফতারের পুণ্যময় সময়টি যখন একদম দোরগোড়ায়, তখন এক ফোঁটা পানি বা একটি খেজুর যেন ক্লান্ত পথচারীর কাছে অমৃতের চেয়েও দামি মনে হয়। রমজানের ঠিক এমনই এক মাহেন্দ্রক্ষণে পরম মমতায় রোজাদারদের দিকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ‘রহিমা মোজাফফর ফাউন্ডেশন’।

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম শুক্রবার রাজধানীর বেইলি রোড ও শান্তিনগর এলাকার কোলাহলমুখর রাজপথে এক স্নিগ্ধ দৃশ্যের অবতারণা করে সংগঠনটি। ঘরে ফিরতে দেরি হওয়া ক্লান্ত পথচারী, খেটে খাওয়া মানুষ আর রোজাদারদের হাতে সযত্নে তারা তুলে দেয় ইফতারের প্যাকেট। শুধু একদিন নয়, রাজধানীর বুকে পুরো রমজান মাস জুড়েই তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত রোজাদারদের মাঝে এই শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ফাউন্ডেশনের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবীরা।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক গভীর মানবিক দর্শন। যারা জীবন-জীবিকার তাগিদে, কর্মব্যস্ততায় বা পথের অপ্রত্যাশিত যানজটে আটকে পড়ে সময়মতো ইফতারের আয়োজন করতে পারেন না— তাদের তৃষ্ণা মেটানোই এই তরুণদের প্রধান ব্রত। ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, তাদের দেওয়া প্রতিটি ইফতারের প্যাকেট কেবল কিছু খাবারের সমাহার নয়; বরং এর ভেতরে পরম যত্নে মোড়ানো থাকে মানুষের প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা, মায়া এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকার এক নীরব প্রতিশ্রুতি।

সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টার সন্তুষ্টি— এই চিরন্তন সত্যকে বুকে ধারণ করে সংগঠনটি মনে করে, একজন রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত ও আত্মিক প্রশান্তি অতুলনীয়। পথের মানুষগুলোর মলিন মুখে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি ফোটাতে এবং এই পুণ্যময় কাজকে আরও প্রসারিত করতে তারা সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান মানুষদেরও অনুদান নিয়ে এই মানবিক যাত্রায় শরিক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে।

আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত একঝাঁক তরুণের এই নিঃস্বার্থ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এরই মাঝে নগরবাসীর হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে, চারদিকে কুড়াচ্ছে প্রশংসার ফুলঝুরি। কংক্রিটের এই শহরে তাদের এই উদ্যোগ যেন প্রমাণ করছে— মানবতা আজও বেঁচে আছে পরম মমতায়।