ঢাকা সোমবার, ৮ই জুন ২০২৬, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দ্বন্দ্ব: ‘হয়রানির’ অভিযোগে ফেসবুক লাইভে কলেজ শিক্ষক, আত্মগোপনে কাটছে দিন


প্রকাশিত:
৮ জুন ২০২৬ ১৭:২২

বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়ের করা মামলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের এক কলেজ শিক্ষক। বর্তমানে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে থাকা ওই শিক্ষক ফেসবুক লাইভে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বকেয়া বিল পরিশোধ না করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ গ্রামের বাসিন্দা সরোয়ার আলম। তিনি বড়চওনা-কুতুবপুর কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক। সরোয়ার আলম নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে শিক্ষকতা করলেও তার প্রতিষ্ঠানটি এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি কোনো বেতন পান না।

লাইভে সরোয়ার আলম অভিযোগ করেন, সখীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) আবুবকর তালুকদারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তার বাবা শামসুল আলম ও মা মমতাজ আলমের নামে তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার রয়েছে। ২০২২ সালে তার বাবার নামে ২ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি বিদ্যুৎ বিল-সংক্রান্ত মামলা করা হয়েছিল, যা পরে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু এরপর থেকেই নতুন করে সমস্যার সূত্রপাত হয়।

সরোয়ার আলমের দাবি, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা তার বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর জের ধরে তাকে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেখিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রায় ৭০ দিন কারাভোগের পর বিল পরিশোধ করে তিনি মুক্তি পান। কিন্তু তিনি যখন কারাগারে ছিলেন, তখনই তার মায়ের নামে থাকা আরেকটি মিটারের বিপরীতে তাকে আসামী করে দ্বিতীয় মামলাটি করা হয়।

বর্তমানে দ্বিতীয় মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন এই শিক্ষক। লাইভে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, "মিথ্যা মামলার ভয়ে আমি পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগ করে নিতে পারিনি। কলেজে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে পারছি না। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।"

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সখীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার বলেন, "সরোয়ার আলমের বাড়ির ও বাজারের দুটি মিটারে দীর্ঘদিন বিল বকেয়া ছিল। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও তারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছিলেন। এ কারণেই আইন অনুযায়ী মামলা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা হয়রানির উদ্দেশ্যে এটি করা হয়নি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "একটি মামলার বকেয়া পরিশোধ করায় তিনি জামিন পেয়েছেন। অন্য মামলার বকেয়া বিল পরিশোধ করে দিলেই তার সব আইনি জটিলতা কেটে যাবে।"

একজন মেধাবী শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও সম্মানজনক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।