মণিরামপুরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়: খুলনার ‘ভোরের পাখি’ প্রথম, হাজারো মানুষের প্রাণের উৎসব
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কাশিপুর তালপুকুরপাড় মাঠে গ্রামবাংলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই মনোমুগ্ধকর প্রতিযোগিতা দেখতে হাজার হাজার উৎসুক দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শনিবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে কাশিপুর তালপুকুরপাড় মাঠ ও এর আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ। কাশিপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে মাঠটিকে আকর্ষণীয় সাজে সজ্জিত করা হয়েছিল।
এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৩০টি নামকরা ঘোড়া অংশ নেয়। ক্ষিপ্র গতি আর সওয়ারিদের নৈপুণ্যে মুগ্ধ হন দর্শকরা। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার জিতে নেয় খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা থেকে আসা ঘোড়া ‘ভোরের পাখি’। ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে নড়াইল জেলার ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত ঘোড়া। এছাড়া তৃতীয় স্থান অধিকারীসহ অংশগ্রহণকারী সব ঘোড়া মালিককে সৌজন্য পুরস্কার প্রদান করা হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান মফিজ, অ্যাডভোকেট মকবুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শমছুজ্জামান শান্ত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কার সিদ্দিক।
অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন খান শফিয়ার রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোতাহারুল ইসলাম (রিয়াদ), সাবেক ইউপি সদস্য নাজমুস সাদত এবং প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী ও স্থানীয় খেদাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিবর রহমানের সার্বিক পরিচালনায় এই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং সাধারণ মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতেই প্রতি বছর এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
