ঢাকা শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


এক পশলা বৃষ্টির পরশ, দোহারসহ তিন উপজেলায় স্বস্তির নিশ্বাস


প্রকাশিত:
৫ জুন ২০২৬ ১৬:৪৬

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে যখন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল জনজীবন, ঠিক তখনই এক পশলা বৃষ্টি নামল পরম আশীর্বাদ হয়ে। আজ শুক্রবার (৫ জুন, ২0২৬) জুমার নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ আকাশ মেঘলা হয়ে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। ক্ষণিকের এই বৃষ্টিতে তপ্ত প্রকৃতি যেমন শীতল হয়েছে, তেমনি ধুলোবালি ও ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন এই তিন উপজেলার সাধারণ মানুষ।

গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার এই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল তীব্র তাপপ্রবাহ। সকাল হতেই সূর্যের প্রখর তীব্রতায় ঘরের বাইরে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তবে আজ দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা শুরু হয় এবং জুমার আজানের ঠিক আগ মুহূর্তে এক পশলা মুষলধারে বৃষ্টি নামে।

হঠাৎ এই বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন পথচারী ও জুমার নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরা। নামাজ শুরুর আগে বৃষ্টি হওয়ায় পরিবেশ অনেকটাই ঠান্ডা হয়ে আসে। যদিও বৃষ্টির স্থায়িত্ব খুব বেশি সময় ছিল না, তবুও বাতাসে আর্দ্রতা কমে গিয়ে এক মনোরম ও শীতল পরিবেশ তৈরি হয়।

এই বৃষ্টি কেবল সাধারণ মানুষের মনেই স্বস্তি ফেরায়নি, বরং স্বস্তি এনেছে স্থানীয় আম ও পাট চাষিদের মনেও। তীব্র খরতাপের কারণে যেখানে ফলন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, সেখানে এই বৃষ্টি প্রকৃতির জন্য সঞ্জীবনী সুধা হিসেবে কাজ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিনের টানা গরমে ঘরে-বাইরে কোথাও টেকা যাচ্ছিল না। এসি বা ফ্যান চালিয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না। জুমার ঠিক আগে প্রকৃতির এই উপহার যেন পুরো সপ্তাহের ক্লান্তি দূর করে দিল। যদিও বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও আকাশ রয়েছে মেঘাচ্ছন্ন, যা বাতাসের শীতল ভাবটা গরমের তীব্রতাকে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।