ঢাকা শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


এক মাসেই ২৯ লাখ টাকার জরিমানা: ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরার ‘কঠোর’ নজরদারি


প্রকাশিত:
৫ জুন ২০২৬ ১৪:৩৫

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন (এআই) ক্যামেরাগুলো এখন ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্যক্রম শুরুর মাত্র এক মাসের মধ্যেই এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ২৯ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১১০টি এআই পিটিজেড (PTZ) ক্যামেরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

ডিএমপির তথ্যমতে, গত ৭ মে থেকে ঢাকায় এই প্রযুক্তি-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আইন ভঙ্গের শত শত ঘটনা ধরা পড়েছে। এখন পর্যন্ত ৬৯৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে—সংখ্যায় যা ৩১২টি। এর পরেই রয়েছে প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহন।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়েই আইন অমান্য করার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। এরপর ক্রমানুসারে রয়েছে জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি ও বাংলা মোটর মোড়। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে চালকরা উল্টো পথে চলা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা কিংবা হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর মতো অপরাধগুলো সহজেই শনাক্ত হচ্ছে।

এই ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যানবাহনের নম্বর প্লেট মুহূর্তেই শনাক্ত করতে সক্ষম। কোনো গাড়ি নিয়ম ভাঙলে ক্যামেরা সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ট্রাফিক বিভাগের কাছে তথ্য পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে গাড়ির মালিকের ঠিকানায় মামলার নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হওয়া মামলার বেশিরভাগই জত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে যানজট সৃষ্টি এবং লেন দখলের কারণে হয়েছে।

নতুন এই সিস্টেমের সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এআই ক্যামেরার ভুয়া মেসেজ বা লিংক পাঠিয়ে জরিমানা আদায়ের নামে প্রতারণা করছে তারা। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়ে ডিএমপি জানিয়েছে, জরিমানার নামে কোনো অর্থ চাইলে তা যেন যাচাই করে নেওয়া হয়।

যদিও প্রযুক্তিটি অপরাধ শনাক্তে বড় ভূমিকা রাখছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। নিবন্ধনহীন ব্যাটারি চালিত যানবাহন কিংবা অস্পষ্ট নম্বর প্লেটের গাড়ি শনাক্ত করা এখনও কর্তৃপক্ষের জন্য কিছুটা কঠিন হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা করছে ট্রাফিক বিভাগ। একই সাথে একই অপরাধ বারবার করলে শাস্তির মাত্রাও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা কি সত্যি বদলে দেবে ঢাকার ট্রাফিক চিত্র, নাকি অভ্যাস পরিবর্তনই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—সেটির উত্তর হয়তো সময়ই বলে দেবে।