ঢাকা সোমবার, ৮ই জুন ২০২৬, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


ব্যক্তিগত গাড়িতে প্রটোকল ছাড়াই ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা সফর: আমিনবাজার ও আশুলিয়ায় অনিয়মের ছড়াছড়ি


প্রকাশিত:
৮ জুন ২০২৬ ১২:৩৯

কোনো পুলিশ প্রটোকল নেই, নেই সরকারি দেহরক্ষী কিংবা গাড়িতে ঝোলানো জাতীয় পতাকা। সাধারণ মানুষের মতো ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে সোমবার (৯ জুন) সাভারের আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল (ভূমি অফিস) কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। প্রতিমন্ত্রীর এমন ‘ছদ্মবেশী’ ঝটিকা সফরে বেরিয়ে এসেছে ভূমি অফিসগুলোর অব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ও সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তির প্রকৃত চিত্র।

সকাল বেলা আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী দেখেন, খোদ সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসাইন খানই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। প্রতিমন্ত্রীর আগমনের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি তড়িঘড়ি করে অফিসে পৌঁছান। কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই নন, অফিসের ৮ জন কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ২ জন (সার্ভেয়ার ও নামজারি সহকারী) নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন। বাকিদের কাউকেই সময়মতো ডেস্কে পাওয়া যায়নি।

পরিদর্শনকালে কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। ভুক্তভোগীরা জানান, দিনের পর দিন ঘুরেও তারা নামজারি বা ভূমি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। এরপর প্রতিমন্ত্রী নিজেই সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং কর্মকর্তাদের উপস্থিতির সময় যাচাই করেন। তথ্য কেন্দ্র ও হেল্প ডেস্কের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেখানে দক্ষ জনবল নিয়োগের নির্দেশ দেন।

রেকর্ড রুম ও ডেটা এন্ট্রি রুম পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টরা প্রতিমন্ত্রীকে জানান, সার্ভার সমস্যার কারণে নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ সময় কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় গাফিলতির অভিযোগে সার্ভার-সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সময়ের চেয়ে সেবার মান ও কার্যকারিতাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আমিনবাজার পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের পলাশবাড়ী কার্যালয়ে যান। সেখানে অফিসের পাশেই লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে নামজারি কার্যক্রম চালানো এবং রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট তার নজরে আসে। সরকারি অফিসের নাগালেই এমন বেআইনি কর্মকাণ্ড দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন। প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ডেকে এ সব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আকস্মিক এই পরিদর্শনে আমিনবাজার ও আশুলিয়া—উভয় সার্কেলেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সেবাদানে বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়েছে। পরিদর্শন শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে জনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমি প্রতিমন্ত্রীর এমন ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়ালেও ঝটিকা সফরে ধরা পড়া অনিয়মগুলো ভূমি প্রশাসনের সার্বিক অবস্থার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।