ঢাকা সোমবার, ১৮ই মে ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ: কতটা নিরাপদ?


প্রকাশিত:
১৭ মে ২০২৬ ১৮:৪০

সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথার মতো সমস্যায় চিকিৎসকের বদলে অনেকেই এখন ভরসা করছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অনলাইন পরামর্শে। এতে করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রযুক্তিনির্ভরতার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই প্রবণতা কি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে?

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যান্টিবায়োটিক একটি শক্তিশালী ওষুধ, যা মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। তবে ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বেশিরভাগ গলাব্যথার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নেই। বরং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার শরীরের ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তৈরি করতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা—যেখানে ভবিষ্যতে এই ওষুধগুলো আর কাজ নাও করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বিশ্বজুড়ে বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। সময়ের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তিত হয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যাকে বলা হয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স।

এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের ভূমিকা। চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি তথ্য ব্যাখ্যা করতে পারে, লক্ষণ অনুযায়ী সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এবং সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্য সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারে। তবে এটি চিকিৎসক নয় এবং রোগ নির্ণয় বা ওষুধ নির্ধারণের অনুমোদিত উৎসও নয়।

কারণ, এসব সিস্টেমের কাছে রোগীর শারীরিক পরীক্ষা, ল্যাব রিপোর্ট, চিকিৎসা ইতিহাস বা ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের সুযোগ নেই। ফলে তথ্যভিত্তিক হলেও এটি চিকিৎসা সিদ্ধান্তের পূর্ণ ভিত্তি হতে পারে না।

চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিটি তৈরি হয় তখনই যখন ব্যবহারকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দেওয়া তথ্যকে সরাসরি চিকিৎসা নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করেন। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রা গ্রহণ শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অ্যালার্জি এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসাকে জটিল করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশায় বা অনলাইন পরামর্শের ওপর নির্ভর করে ওষুধ গ্রহণের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে—রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া বা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতিতে তথ্য গুছিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত জায়গাটি এখনো চিকিৎসকেরই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণ ওষুধ নয় এবং এটি কখনোই অনুমানভিত্তিকভাবে গ্রহণের বিষয় নয়।

প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতি একই থাকে—সঠিক রোগীর জন্য সঠিক ওষুধ, সঠিক সময়েই।