ঢাকা সোমবার, ১৮ই মে ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


পবিত্র কোরবানিতে কক্সবাজারে গরু চুরি-ডাকাতির আতঙ্ক: রাত জেগে খামার পাহারা দিচ্ছেন বাসিন্দারা


প্রকাশিত:
১৭ মে ২০২৬ ১৯:১৫

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতির আতঙ্ক ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। কোরবানির পশুর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা। চোরচক্রের হাত থেকে নিজেদের সম্বল রক্ষা করতে জেলাজুড়ে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে রাতভর পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি অনেক এলাকায় মসজিদের মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

যেসব এলাকায় আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া এবং উখিয়ার বিভিন্ন গ্রামে এই চোর ও ডাকাত আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা গভীর রাতে খামার ও বাড়ির গোয়ালঘর টার্গেট করে হানা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

পাহারা দিচ্ছেন খামারি ও যুবসমাজএবার কোরবানির ঈদকে ঘিরে কক্সবাজারের বিভিন্ন খামারে বিপুল সংখ্যক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে এবং জেলাজুড়ে আগেভাগেই কেনাবেচা শুরু হয়ে গেছে। ফলে খামারিদের ঝুঁকিও বেড়েছে কয়েক গুণ।

রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার খামারি হেলাল উদ্দিন জানান, “খামারে লাখ লাখ টাকার গরু রয়েছে। তাই রাতে ঘুমানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা কয়েকজন মিলে দল বেঁধে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছি। এলাকায় অপরিচিত কাউকে দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

পিএমখালির খামারি শহিদুল ইসলাম বলেন, “এবার গরুর দাম বেশি হওয়ায় চোরদের নজরও বেশি। রাতভর এলাকার যুবকরা টহল দিচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে প্রশাসনের আরও জোরালো নজরদারি দরকার।”

ঝিলংজা ইউনিয়নের খামারি গিয়াস উদ্দিন জানান, “গ্রামে এখন প্রায় প্রতি রাতেই পাহারা বসছে। যুবকরা বাঁশি, টর্চলাইট ও লাঠি নিয়ে টহল দিচ্ছে। গভীর রাতে সন্দেহজনক কোনো মোটরসাইকেল বা গাড়ি দেখলেই থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জন প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (চেয়ারম্যান-পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদ) জানিয়েছেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইতিমধ্যে 'স্বেচ্ছাসেবী পাহারা টিম' গঠন করা হয়েছে। চোরদের রুখতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাতের বেলায় মোবাইল টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, এই ঝুঁকি তত বাড়বে। তাই পশুর হাট এবং খামারগুলোতে এখনই নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের পরিদর্শক কাজী মোহাম্মদ মতিউল ইসলাম জানান, গরু চুরি ও ডাকাতি ঠেকাতে জেলাজুড়ে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতিমধ্যেই পুলিশের বিশেষ টহল শুরু হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর বা সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানান।