জামালপুরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোয় পারাপার: চরম দুর্ভোগে তিন গ্রামের মানুষ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের উত্তর সারমারা এলাকায় একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই যেন হাজারো মানুষের নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘ দিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে এই সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন বালুরচর, পেরিরচর ও উত্তর সারমারা গ্রামের হাজারো বাসিন্দা। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়েই প্রতিদিন পারাপার হতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীটির ওপারে অবস্থিত অবহেলিত এই জনপদের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই বাঁশের সাঁকোটি। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও রোগীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনই এই মরণফাঁদ পাড়ি দিতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে এলাকাবাসীকে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দপ্তরে বারবার ধরনা দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়ায় এসব গ্রামের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
বালুরচর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, "আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই? বছরের পর বছর ধরে একটি সেতুর জন্য আবেদন নিবেদন করছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনে না। এই সাঁকো দিয়ে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে পার হতে বুক কাঁপে। কখন যে কী ঘটে যায়, আল্লাহই জানেন!"
এলাকাবাসী জানান, সঠিক সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ থেকে শুরু করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতেও তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
দ্রুত জনদুর্ভোগ লাঘবে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী তিন গ্রামের মানুষ।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন এলাকাবাসী।
