ঢাকা রবিবার, ২৪শে মে ২০২৬, ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


হামের ছোবলে ৬৮ দিনে ৪৯৯ শিশুর মৃত্যু: জাতীয় স্বাস্থ্য সংকটের মুখে দেশ


প্রকাশিত:
২৩ মে ২০২৬ ১৩:৫৯

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬৮ দিনে দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪৯৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল গত ২৪ ঘণ্টায়ই প্রাণ হারিয়েছে ১১ জন শিশু, যার মধ্যে পাঁচজনই সিলেট অঞ্চলের।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে, যার মধ্যে ৮৫ জন হামে আক্রান্ত হয়ে এবং ৪১৪ জন হামের উপসর্গে মারা গেছে। একই সময়ে দেশে মোট ৬০ হাজার ৫৪০ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং ল্যাবরেটরিতে ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর দেহে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৬১ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই নির্দেশ করছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে টিকা উৎপাদন বৃদ্ধি, আক্রান্ত শিশুদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল টিকাদান কর্মসূচিই যথেষ্ট নয়; বরং আক্রান্ত এলাকায় নিবিড় নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, হাসপাতালে আলাদা ইউনিট চালু করা এবং পুষ্টিহীন শিশুদের বিশেষ সুরক্ষার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করছেন, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, টিকার সংকট এবং জনসচেতনতার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।

সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন যে, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন ঈদের ছুটির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় আকারের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা এবং আক্রান্ত শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে না পারলে এই মৃত্যু মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।