ঢাকা রবিবার, ২৪শে মে ২০২৬, ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


নরসিংদীতে যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন


প্রকাশিত:
২৩ মে ২০২৬ ২০:১১

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই যুবক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে উপজেলার মাঝেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আশিক ভূঁইয়া (২০) মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। আহতরা হলেন একই এলাকার বকুল ভূঁইয়ার ছেলে রুহুল আমিন (২০) ও মান্নান ফকিরের ছেলে ইলিয়াস। গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, শনিবার (২৩ মে) সকালে আশিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারুলিয়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সাগর (২২) ও তার ছোট ভাই সোহাগের সঙ্গে রুহুল আমিনের পূর্ব বিরোধ ছিল। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিরোধ মীমাংসায় শুক্রবার বিকেলে পারুলিয়া ভূঁইয়া বাড়ির পাশে সালিশের সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে সালিশকারীদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাগর, সোহাগসহ ১০ থেকে ১৫ জন আশিকের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে আশিক গুরুতর আহত হন। তাকে বাঁচাতে গেলে রুহুল আমিন ও ইলিয়াসও ছুরিকাঘাতে আহত হন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিককে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রোমান ভূঁইয়া জানান, সালিশ শুরুর আগেই সাগর ও সোহাগ আশিকের ওপর হামলা চালান। পরে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আরও দুজন আহত হন।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, আশিকের মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।