ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১


কুন্ডেরচর কালু বেপারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি ২০১৫ ব্যাচের ইফতার অনুষ্ঠিত


২৯ মার্চ ২০২৫ ২৩:২২

আপডেট:
৩ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৪১

ছবি: মিজানুর রহমান

প্রতিবছরের ন্যায় এবারো শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কুন্ডেরচর কালু বেপারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০১৫ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের ইফতার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। আজ ২৯ মার্চ (শনিবার) নড়িয়ার ঈশ্বরকাঠি বেরিবাধ এলাকায় এই আয়োজন হয়। ব্যাচের বিভিন্ন জন অন্যান্য দেশে অবস্থান করায় ইফতারে অংশ নিতে না পারলেও স্থানীয় সবাই অংশগ্রহণ করেন। যেখানে বিদেশে অবস্থানরত বন্ধুরাও অবদান রাখেন নানাভাবে সহায়তা করে। ইফতারে উপস্থিত ছিলেন ২০১৫ ব্যাচের মিজানুর রহমান, রিয়াজ হোসেন, সিফাত রাব্বানী, সজীব হোসেন, আল-আমিন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আবুল হোসেন, মামুন মিয়া, রিমন মিয়া, বিল্লাল হোসেন ও সাব্বির হোসেন।

সিফাত রাব্বানী জানান, ‘আমাদের প্রতিবছর ইফতারের জন্য নদীতীরবর্তী কোন জায়গা চূড়ান্ত করা হয়। নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আমরা আমাদের শৈশবের বিকেলগুলো কাটিয়েছি একসাথে। নদীর সাথে আমাদের সম্পর্কটা অন্যদের থেকে আলাদা। প্রতিবছর এখানে একত্র হয়ে গল্পে কল্পনায় হারিয়ে যাওয়া আমাদের অনেক দিনের পরিকল্পনা। আজও সেই দিনটি চলে গেল। আবারো অপেক্ষা করতে হবে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অন্তত এক বছর।’

রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘আমরা যত ব্যস্ত থাকিনা কেন, একসাথে ইফতার না করতে পারলে আমাদের অপূর্ণতা থেকে যায়। আমরা ৫০ জন ব্যাচের শিক্ষার্থী কিন্তু আজ এখানে ১১ জন। নাকি ৩৯ জনকে আমরা মিস করি। উপস্থিত কম হলেও আমাদের ইফতারের আলোচনা হয় সবাইকে নিয়ে। জীবনের তাগিদে অনেকেই দেশ ছেড়েছেন বহু আগে, আমার সেই বন্ধুদের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

মিজানুর রহমান যোগ করেন, ‘ঈদের দুইদিন আগে সমস্ত ব্যবসায়িক চাপ ফেলে অন্য উপজেলা থেকে ছুটে আসি শুধু সুন্দর একটা মুহূর্ত পার করবো বলে। সেটা সবার অংশগ্রহণে সম্ভব হয়। আশা করি আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট থাকবে।’

আল-আমিন ইসলাম সবশেষ জানালেন, ‘ঢাকায় কয়েক মাস খুব কাজের চাপে ছিলাম। বাড়ি এসেও সেই ধকল পাড় করতে পারিনি। বন্ধুদের অনবরত কল, মেসেযে দৌড়ে এসেছি ২০ কিলোমিটার দূর থেকে। একসাথে ইফতার, নদীরপাড়ের ঠান্ডা বাতাস, পানির শব্দ সাথে নিয়ে একসাথে নামাজ আদায় সর্বপরি দারুণ সময় কাটলো।

বন্ধুরা এলোমেলো থাকলেও ঈদ তাদের গুছিয়ে ফেলে, জীবনকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মিলিত করে আনন্দের স্বর্গে। রিমন-রিয়াজরাও তাদের মজবুত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আজীবন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। 


নদীতীরে ইফতার, নড়িয়া, জাজিরা, শরীয়তপুর