ঢাকা শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


সাপাহার সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা, জিরো লাইনে বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি


প্রকাশিত:
৫ জুন ২০২৬ ১৮:১৪

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে গভীর রাতে ১৭ জন বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশ-ইন (অনধিকার প্রবেশ) করানোর চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনার পর থেকে সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জিরো লাইনে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ভারতীয় বিএসএফ জোয়ানরা ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই ১৭ জনকে আটক করে। পরে সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৭ নম্বর মেইন পিলারের চকচকির বিল লোহার ব্রিজ এলাকা দিয়ে তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয়।

পুশ-ইনের শিকার ওই ব্যক্তিরা রাতের অন্ধকারেই বোরো ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে শুক্রবার ভোরে কলমুডাঙ্গা চৌমুহোনী এলাকায় এসে অবস্থান নেন।

ভোরবেলা স্থানীয় এলাকাবাসী অপরিচিত ওই লোকজনকে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে কলমুডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করেন। এরপর উদ্ধারকৃতদের বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়ার (পুশব্যাক) উদ্দেশ্যে সীমান্তের ২৩৭ নম্বর পিলারের জিরো লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে বিজিবি সদস্যরা সেখানে পৌঁছানো মাত্রই বিএসএফ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পুশব্যাক প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান করে।

বিএসএফের বাধার মুখে বর্তমানে জিরো লাইনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবি এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফ সদস্যরা সেখানে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। সীমান্তে পুশ-ইনের শিকার ১০ জন নারী ও ৭ জন পুরুষসহ (যার মধ্যে শিশুও রয়েছে) মোট ১৭ জন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জিরো লাইনে অপেক্ষা করছেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নওগাঁ ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে জিরো লাইনে আটকে পড়া এই মানুষদের শেষ পর্যন্ত কী করা হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিজিবি অধিনায়ক।