ঢাবিতে দিনে-দুপুরে এটিএম বুথের সামনে ছিনতাই; প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত টিএসসি এলাকায় দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১০ মে) দুপুরে জনতা ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে এক ব্যক্তির গতিরোধ করে ছুরি ঠেকিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ২৫ মিনিটে টিএসসির জনতা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে এক ব্যক্তি অটোরিকশাযোগে যাচ্ছিলেন। বুথের ঠিক সামনেই দুই জন ছিনতাইকারী অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। এরপর ওই ব্যক্তিকে ছুরি ঠেকিয়ে তার সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় তারা। ভুক্তভোগী ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হলেও ক্যাম্পাসের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
শহীদুল্লাহ হলের প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী মাহির আজরাফ বলেন, ‘আমি টিএসসির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। ওই ব্যক্তি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রিকশায় ওঠার পরপরই দুজন তাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে সব ছিনিয়ে নেয়। দিনের আলোতে ক্যাম্পাসের বুকে এমন ঘটনা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’
ক্যাম্পাসে অব্যাহত নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।
আসিফ আব্দুল্লাহ লেখেন, “জুলাইয়ের পরে বাংলাদেশের পুরনো সে রূপ দেখলে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। দেশজুড়ে এত এত অরাজকতা চলছে, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীনের কোন খবর নাই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিকশা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের সব প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন করলেও প্রশাসনের অসহযোগিতায় তা আলোর মুখ দেখছে না। তিনি বলেন, “প্রশাসন প্রবেশমুখগুলোতে ফোর্স না দেয়ায় সবকিছু স্থবির হয়ে আছে। গত কয়েক দিনে নিউ মার্কেটে শাহনেওয়াজ হলের সামনে খুন এবং গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসন নির্বিকার।”
এদিকে ক্যাম্পাসের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে বলে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। তবে আমি মাত্রই পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে এসেছি। পরবর্তী প্রক্টর যিনি আসবেন, তিনি বিষয়গুলো দেখবেন।”
দিনের আলোতে ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন ছিনতাই ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
