নাটকীয়তা পেরিয়ে শপথ: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ‘থালাপতি’ বিজয়
তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মহাতারকা থেকে এখন তিনি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সব জল্পনা-কল্পনা ও নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়, যিনি বিশ্বজুড়ে ‘থালাপতি বিজয়’ নামেই পরিচিত। এর মাধ্যমে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো।
আজ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণ করেন বিজয়। তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। বিজয়ের পাশাপাশি তার মন্ত্রিসভার আরও ৯ জন সদস্য আজ শপথ নিয়েছেন। তারা হলেন— এন আনন্দ, আধব অর্জুন, রাজমোহন, আর নির্মল কুমার, পি ভেঙ্কটরামানান, কে জি অরুণ রাজ, কে এ সেনগোট্টাইয়ান, টি কে প্রভু ও সেলভি এস কীর্তনা।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ ছাড়াও বিজয়ের বাবা-মা, জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান এবং বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে কয়েক লাখ সমর্থকের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে জোট সরকার গঠন করল। গত সোমবার ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে চমক দেখিয়েছে। ৫১ বছর বয়সী বিজয় নিজে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসন না থাকায় গত কয়েক দিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র নাটকীয়তা চলছিল। গত শুক্রবার পর্যন্ত টিভিকে-র সমর্থন ১১৬ আসনে আটকে ছিল। তবে শনিবার ‘বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি’ (ভিসিকে) ও ‘ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ’ (আইইউএমএল) আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়কে সমর্থন দিলে সমীকরণ বদলে যায়। এই দুই দলের চারটি আসন যুক্ত হওয়ায় জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০-এ। এ ছাড়াও কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআই(এম)-এর সমর্থনপত্রও গভর্নরের কাছে জমা দেন বিজয়।
সিনেমার পর্দায় অজেয় নায়কের ভূমিকা পালন করা বিজয় এখন বাস্তব জীবনের বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘ কয়েক দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দ্বিমেরু রাজনীতি ভেঙে দিয়ে এক নতুন ধারার সূচনা করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিনেতা হিসেবে যে জনপ্রিয়তা বিজয় অর্জন করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে তিনি তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এমজিআর বা জয়ললিতার মতো কিংবদন্তি হয়ে উঠতে পারেন।
শপথ গ্রহণ শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিজয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই জয় সাধারণ মানুষের জয় এবং তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
