ঢাকা রবিবার, ১০ই মে ২০২৬, ২৮শে বৈশাখ ১৪৩৩


মিরাজের ‘ফাইফার’ ও তাসকিনের তোপে পাকিস্তানের ছন্দপতন, প্রথম ইনিংসে লিড বাংলাদেশের


প্রকাশিত:
১০ মে ২০২৬ ১৭:২৪


মিরপুর টেস্টের চিত্রটা এক সময় পাকিস্তানের দিকেই হেলে ছিল। অভিষেক ইনিংসে সেঞ্চুরি করে আজান যখন দাপট দেখাচ্ছিলেন, তখন বাংলাদেশের ৪১৩ রান খুব একটা নিরাপদ মনে হচ্ছিল না। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ। মিরাজের দুর্দান্ত পাঁচ উইকেট বা ‘ফাইফারে’ পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে অলআউট করে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হাসান শান্তর দল বড় সংগ্রহের পর বল হাতেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল।

তৃতীয় দিনের শুরুটা পাকিস্তানের জন্য ছিল স্বপ্নীল। ২১০ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান বড় লিডের পথেই হাঁটছিল। অভিষিক্ত ওপেনার আজান ১৬৫ বলে ১০৩ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি তুলে নেন। তার সঙ্গী ফজলও তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি (৬০)। তবে ১০৪ রানের এই জুটি ভাঙেন পেসার তাসকিন আহমেদ। সেঞ্চুরিয়ান আজানকে ফিরিয়ে দিনের প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেওয়ার পর পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকেও (৯) টিকতে দেননি তাসকিন। মিরাজ এসে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সৌদ শাকিলকে (০)। ২৩০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তখন কোণঠাসা।

বিপর্যয় সামাল দিতে হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ষষ্ঠ উইকেটে তারা ১১৯ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। রিজওয়ান ৫৯ ও সালমান আগা ৫৮ রান করে পাকিস্তানকে লিডের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। তবে তাইজুলের বলে রিজওয়ান আউট হতেই পাকিস্তানের লেজ ছেঁটে দেন মিরাজ। একে একে উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারের আরও একটি পাঁচ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অফস্পিনার। ফলে ৪১৩ রানের জবাবে ৩৮৬ রানেই থামতে হয় সফরকারীদের।

এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তর সেঞ্চুরি (১০১), মুমিনুল হকের ৯১ ও মুশফিকুর রহিমের ৭১ রানের ওপর ভর করে ৪১৩ রানের পাহাড় গড়েছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মুহাম্মদ আব্বাস। প্রথম ইনিংস শেষে ২৭ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অপেক্ষায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ গড়তে পারলে মিরপুর টেস্টে জয়ের সুবাস পেতে পারে স্বাগতিকরা।