ঢাকা সোমবার, ১৮ই মে ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


আফ্রিকায় প্রাণঘাতী ইবোলার থাবা: জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার


প্রকাশিত:
১৭ মে ২০২৬ ১৫:০৪

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ফের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার সংক্রমণে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এই সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ২৪৬ জনের শরীরে এই ভাইরাসের সন্দেহভাজন সংক্রমণ মিলেছে এবং অন্তত ৮০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষ করে কঙ্গোর বুনিয়া শহর এবং স্বর্ণখনি এলাকা মংগওয়ালু ও রওয়াম্পারায় নতুন রোগী ও মৃত্যুর ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।

সংক্রমণ শুধু কঙ্গোর ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও। সেখানে ইতিমধ্যে দুটি নিশ্চিত সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। উগান্ডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রাদুর্ভাবটি মূলত ইবোলার ‘বুন্ডিবুগিও’ (Bundibugyo) ভাইরাস স্ট্রেইনের কারণে ঘটছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বিশ্বে কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। ইতিমধ্যে আটটি পরীক্ষাগারে এই সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, "আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা এবং রোগের ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে এখনো বিরাট অনিশ্চয়তা রয়েছে।" তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডব্লিউএইচও ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন সেন্টার স্থাপন, রোগ পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল না আসা পর্যন্ত তাদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

তবে সংক্রমণ ঠেকাতে এখনই সীমান্ত বন্ধ বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিপক্ষে মত দিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত ভয়ের কারণে নেওয়া হয়, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গো অঞ্চলেই প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছিল। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ইবোলা অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। এটি মানবদেহে তীব্র রক্তক্ষরণসহ মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করে। ডব্লিউএইচও’র তথ্যমতে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ, যা একে পৃথিবীর অন্যতম প্রাণঘাতী ভাইরাসে পরিণত করেছে।