‘রাস্তায় নাটক করবেন না’: জাবি উপাচার্যকে ছাত্রী, প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টায় জড়িত যুবককে গ্রেপ্তারে বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম পেরিয়ে যাওয়ার পর উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। প্রশাসন অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে শনিবার দিনভর বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সাথে শিক্ষার্থীদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এক ছাত্রী উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাগ করে রাস্তায় নাটক করলে হবে না।’ জবাবে উপাচার্যও পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নাটক তোমরাও যেমন পার। আমি নাটক, তোমরাও নাটক।’ এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দিলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। জবাবে উপাচার্য বলেন, তিনি ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবক্ষয় টানছেন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন। আগের উপাচার্য যখন শিক্ষার্থীদের মারধরের সময় ভেতরে বসে ছিলেন, তখন তিনি বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেন।
এদিকে, প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তারা প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নিজেদের নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এই প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনার তথ্য গোপন করেছে এবং ভুল ছবি প্রচার করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। প্রক্টর অফিসের দেয়ালে ও জানালায় ‘গেট লস্ট’, ‘অবাঞ্ছিত প্রক্টর’, ‘ব্যর্থ-বেহায়া’—এমন সব স্লোগান সম্বলিত গ্রাফিতিও আঁকা হয়।
গত ১৩ মে জাবির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর ৬ দফা দাবিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। সেই আলটিমেটাম শুক্রবার রাত ৩টায় শেষ হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা জানান, প্রক্টরের পদত্যাগ, অপরাধীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানিয়েছেন, পুলিশ অপরাধীকে ধরার চেষ্টা করছে এবং কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে নিয়মতান্ত্রিক তদন্ত ছাড়া কাউকে হুট করে পদ থেকে সরানো সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের তদন্তের জন্য কিছু সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের কথা শুনে তদন্ত কমিটির মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভুল ছবি প্রকাশের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।
