ঢাকা বুধবার, ২৪শে জুলাই ২০২৪, ১০ই শ্রাবণ ১৪৩১


নকলায় অটো চালককে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাই প্রচেষ্টা, গ্রেফতার ২


৮ জুলাই ২০২৪ ১৯:০১

আপডেট:
২৪ জুলাই ২০২৪ ২১:৫৭

 

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চক্রকোনা বাজার থেকে যাত্রীবেশী তিন ছিনতাইকারী দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি অটোরিকশা ৭ জুলাই রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাড়া নেয় এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে অটোরিকশা চালক মোঃ উসমান মিয়া (৬০) কে এলোপাথারীভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রচেষ্ঠা চালায়। পরদিন ৮ জুলাই সোমবার ভোররাতে নকলা থানার পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইকারী দলের দুই সদস্য মোঃ সাকিবুল হাসান ওরফে জয় (১৬) ও মোঃ তানভির ওরফে বর্ণ (১৫) কে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও সংঘবদ্ধ দলের আরেক সদস্য মোঃ সিয়াম (১৭) নামে এক ছিনতাইকারী পলাতক রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ছিনতাকারীরা হলো- মোঃ সাকিবুল হাসান ওরফে জয় নকলা উপজেলার কাজাইকাটা পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ সেতু মিয়ার ছেলে, মোঃ তানভির ওরফে বর্ণ একই উপজেলার বালিয়াদী মধ্যপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল বারেকের ছেলে ও পলাতক মোঃ সিয়াম বালিয়াদী মধ্যপাড়া গ্রামের মোঃ বুলবুল এর ছেলে।

এঘটনায় শেরপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৮ জুলাই সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশ সুপার মোঃ আকরামুল হোসেন পিপিএম এর সভাপতিত্বে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর তিন অটোরিকশা ছিনতাইকারী নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা বানিয়াপট্টী গ্রামের মৃত হোছেন আলীর ছেলে অটোরিকশা চালক মোঃ উসমান মিয়ার ভাড়ায় চালিত ওই অটোরিকশাটি রোববার রাতে পূর্বপরিকল্পিত ছিনতাইয়ের জন্য সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী সাকিবুল হাসান জয়, তানভির ওরফে বর্ণ ও সিয়াম তাদের গন্তব্যস্থলে যাবার জন্য ভাড়া নেয় এবং চালককে বলে বানেশ্বরর্দী কবুতরমারী মিলন বাজারে যাবার জন্য। পরে ছিনতাইকারীরা পুনরায় সেখান থেকে বাউশা যেতে বলে। এদিকে রাত সোয়া ১টা হয়ে যাওয়ায় চালক মোঃ উসমান আলী ছিনতাইকারীদের কথামত তাদের গন্তব্যয় না যেতে চাওয়ায় এক পর্যায়ে তর্ক বিতর্কের পর ওই ছিনতাইকারীরা এলোপাথী কিলঘুষি মারে ওই অটো চালককে। এতেও ক্ষান্ত থাকেনি ছিনতাইকারীরা পরে উসমান আলীর বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এসময় উসমান আলীর আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা অটোরিকশা ও তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত উসমান আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এঘটনায় উসমান আলীর ছোট ভাই আব্বাস আলী বাদী হয়ে ওই রাতেই নকলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে জেলা পুলিশের সমন্বয়ে এ্যাকশন টিম সোমবার ভোররাতেই দুই কিশোর ছিনতাইকারীকে আটক করে এবং ঘটনার পর থেকে অপর ছিনতাইকারী সিয়াম পলাতক রয়েছে। সেই সাথে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ক্রয়কারীকেও গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রখেছেন বলে পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন পিপিএম উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের এমনটাই জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ খোরশেদ আলম (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) আরাফাতুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সাইদুর রহমান, ডিআইও- ১ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল কাদের মিয়া, জেলা গোয়েন্দা শাখা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাইম মোহাম্মদ নাহিদ উক্ত মামলার দায়িত্তপ্রাপ্ত এস আই মনিরুজ্জান সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।