ঢাকা বুধবার, ৫ই অক্টোবর ২০২২, ২১শে আশ্বিন ১৪২৯


সুজনকে ঠেকাতে রেজাউলকে প্রশংসায় ভাসালেন নাছির


১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৭:৩৭

আপডেট:
৫ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৫৩

স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীর ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভায় তার এ প্রশংসাকে একটি পক্ষ মনে করছেন চসিকের বর্তমান প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনকে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে। গত ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর আগে এ নির্বাচনে অংশ নিতে সদ্য সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির এবং বর্তমান চসিক প্রশাসক নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন মেয়র পদে মনোনয়ন চান।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মত না হওয়ায় দুজনের কেউই মনোনয়ন পাননি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে মনোনয়ন পেয়ে যান নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত কম প্রতিযোগিতা তৈরি করা রেজাউল করিম। নগর আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করোনাকালেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন কম- যেখানে আ জ ম নাছিরকে সক্রিয় দেখা গেছে অনেক বেশি। এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট আ জ ম নাছিরের মেয়র পদের মেয়াদ শেষে সবাইকে অবাক করে দিয়ে চসিকের প্রশাসক হন খোরশেদ আলম সুজন। প্রথমদিন থেকেই মাঠে ময়দানে ঘুরে তিনি চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারী থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীদেরও অবাক করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, আগের সিডিউল অনুযায়ী চসিক নির্বাচন হবে নাকি নতুন করে সিডিউল ঘোষণা করা হবে- এমন প্রশ্ন ও সংশয়ের মধ্যে আছেন নির্বাচনের প্রার্থী এবং অন্য রাজনীতিবিদরা। নগর আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে সব কিছু। তিনি চাইলে নতুন সিডিউল ঘোষণা করার অবকাশ আছে। নতুন সিডিউল ঘোষণা করলে মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন হবে কিনা এ প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাথায়। একাধিক নেতা বলছেন, চসিকের নতুন প্রশাসক শুরু থেকে যেভাবে সবকিছু বদলে দিচ্ছেন, তাতে শহরের প্রতিটি নাগরিক থেকে শুরু করে দলের কেন্দ্রেও তা সাড়া ফেলেছে। এ কাজ করতে গিয়ে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের সময়ে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত তিনি স্থগিত করেছেন। খুঁজে খুঁজে বের করছেন অনিয়ম ও দুর্নীতি। একই সঙ্গে সুজন ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দিনরাত বসে থাকা হকারদের সরাতেও সফল হয়েছেন। এসব কারণে অনেক নেতা মনে করছেন, নতুন সিডিউল ঘোষণা হলে সুজনই হবেন মেয়র পদে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোরশেদ আলম সুজন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘প্রশাসক হিসেবে আমার সময় খুবই স্বল্প। কাজেই মানুষের জন্য কাজ করাটাই সবার আগে ভাবছি।’ এদিকে গত বুধবার নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভায় আ জ ম নাছির ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী আসন্ন নির্বাচনে রেজাউল করিম চৌধুরীকে জিতিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। নাছির বলেন, ‘চসিক নির্বাচনে রেজাউল করিম চৌধুরী শেখ হাসিনার প্রার্থী। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তিনি একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। তিনি নির্বাচিত হলে নগরীর উন্নয়নে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

ওই বর্ধিতসভায় খোরশেদ আলম সুজনও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা অন্য কোনো নেতা তার চলমান উন্নয়ন কর্মকা- নিয়ে কথা বলেননি।