ইউরোপে পাঠানোর টোপে ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূলহোতাসহ প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল এই চক্রের মূল কাজ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চক্রের মূলহোতা শেখ মো. সাদী (৪১), মো. নাহিন (২৫) ও জাহাঙ্গীর আলম (২৪)। সোমবার (৮ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথিপত্র ও আলামত জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সদর কোম্পানির কমান্ডার মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয়।
র্যাব জানায়, মো. রমজান হোসেন খান নামে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। রমজান ও তার শ্যালককে ইতালি পাঠানোর কথা বলে চক্রটি ধাপে ধাপে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয় চক্রটি। উল্টো ভুয়া ভিসা দিয়ে তাদের বিভিন্ন দেশে ঘুরিয়ে সর্বস্বান্ত করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার শেখ মো. সাদী ‘জাহরা সাদী টিকিটিং অ্যান্ড ট্রাভেলিং’ ও ‘জেএস এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস’ নামে দুটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। প্রথমে ভুক্তভোগীদের ক্রোয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে ইতালির ওয়ার্ক পারমিটের লোভ দেখানো হয়। এ জন্য জনপ্রতি ১৪ লাখ টাকা চুক্তি করা হয়।
টাকা নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত দূতাবাসে পাঠানো হয়। সেখানে ৭২ দিন অপেক্ষার পর কোনো ভিসা না পেয়ে তারা দেশে ফিরে আসেন। এরপর তাদের নিউজিল্যান্ডের ভুয়া ভিসা দেখানো হয়। সর্বশেষ সার্বিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ভুক্তভোগীদের শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়ে সেখানকার একটি স্থানীয় চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে বিপদে পড়ে কোনোমতে দেশে ফিরে তারা র্যাবের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাদের এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।"
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়েছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার আগে তাদের সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে র্যাব।
