ইডেন ছাত্রীদের ‘নষ্টা নেত্রী’ বলে ইবি ছাত্রদল নেতার কুরুচিপূর্ণ পোস্ট
রাজধানীর ইডেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘নষ্টা নেত্রী’ এবং ‘গুপ্ত সংগঠনের সদস্য’ বলে অভিহিত করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব। রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে এমন অবমাননাকর মন্তব্য করেন তিনি। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
রোববার (১০ মে) সকালে নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আহসান হাবীব ইডেন ছাত্রীদের আন্দোলনের ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘এদের ধরে ধরে যদি কাঁচা কোঞ্চি দিয়ে বানানো হতো, তাহলে এরা মধ্যরাতে মব সৃষ্টি করার সাহস পেতো না। এদের দেখে কি মনে হয় এরা সাধারণ শিক্ষার্থী? এরা মূলত গুপ্ত ছাত্রী সংস্থার নষ্টা নেত্রী।’
তাঁর এই স্ট্যাটাসের নিচে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ কে আজাদ নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “ভাই, এটাই আপনাদের বড় ব্যর্থতা... গেঞ্জি পরা মেয়ে ছাত্রী সংস্থার কর্মী হবে এটা অসম্ভব। যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই তকমা দেওয়া হবে, ঠিক তারা রাজপথে স্লোগান দেবে ‘তুমি কে আমি কে, গুপ্ত গুপ্ত’—যেমনটা জুলাই আন্দোলনে হয়েছে।” সাহেব আলী নামে অপর একজন একে ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে লেখেন, “রাজনীতি হয় জনগণ আর ছাত্রদের নিয়ে, বিরোধী দলকে খোঁচা দেওয়া বা অত্যাচার করা রাজনৈতিক কালচার পরিবর্তন হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে আহসান হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি দিনে-দুপুরে করলে সুন্দর হতো। মধ্যরাতে সাধারণ শিক্ষার্থী সেজে এমন আন্দোলন করায় আমার মনে হয়েছে তারা কোনো বিশেষ সংগঠনের সাথে জড়িত। ভদ্র সমাজের শিক্ষার্থী হিসেবে এটি মানানসই নয়, সেই জায়গা থেকেই আমি এমন মন্তব্য করেছি।” তবে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে এই বিতর্কিত মন্তব্যের দায় নিতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “নারীদের প্রতি কোনো ধরনের কটূক্তি করা ছাত্রদল কখনো উৎসাহিত করে না। আহসান হাবীব যে মন্তব্য করেছেন, সেটি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত। এটি সংগঠনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য নয়।”
উল্লেখ্য, ইডেন কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ছাত্রদল নেতার এমন আক্রমণাত্মক ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতির অন্তরায়।
