৬৬ নতুন ভবন ও ৪৫৮ কার্যালয় সম্প্রসারণ করছে ইসি

জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম, নির্বাচনি ডেটাবেজ সংরক্ষণ এবং সার্বিক সেবার মান বাড়াতে ৬৬টি নতুন নির্বাচন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি ৪৫৮টি কার্যালয় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
চারটি বিশেষায়িত নকশায় পরিকল্পনাধীন এই ৬৬টি ভবনের মধ্যে একটি আঞ্চলিক, তিনটি জেলা, ৪৫টি উপজেলায় এবং ১৭টি মেট্রোপলিটন থানায় স্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, সম্প্রসারণ ও নির্মাণ সব মিলে আমরা একটি প্রজেক্ট করছি। যেখানে এলজিডি করবে সেখানে এলজিডি প্রাক্কলন দেবে আর যেখানে পিডব্লিউডি করবে সেখানে পিডব্লিউডি প্রাক্কলন দেবে। তাদের প্রাক্কলন দিতে বলা হয়েছে। প্রাক্কলন পেলে আমরা বলতে পারব কত ব্যয় হবে। তবে সম্প্রসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
নতুন ভবন ও কার্যালয় সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের একটি আঞ্চলিক, তিনটি জেলা, ৪৫টি উপজেলায় ও ১৭টি মেট্রোপলিটন থানায় ভবন নেই, সেটা করতে হবে। তারপরে আমাদের বর্তমান সময়ে ইসির যে কার্যক্রম বেড়েছে তাতে আমাদের স্থানের সংকুলান হচ্ছে না। প্রায় প্রতিটি অফিসে মানুষের প্রচুর ভিড় থাকে, তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে আমাদের অফিসাররা ঠিকমতো সেবা দিতে পারছেন না। এক্ষেত্রে এটা আমাদের লাগবে।
এই কর্মকর্তা বলেন, আবার আমাদের নির্বাচনের সময় বিশেষ করে উপজেলা, সংসদ ও ইউনিয়ন নির্বাচনের সময় যে মালামালগুলো যায়, সেগুলো সংরক্ষণের জন্য জায়গা থাকে না। এছাড়া আমাদের এনআইডি আছে, এর সার্ভার আছে, এগুলো সংরক্ষণ করতে হয়। এগুলোর জন্য তো আমাদের জায়গার প্রয়োজন। এজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মালামালা অন্যের জায়গাতে যেন না রাখতে হয়, এজন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জেলা পর্যায়ে ৬০টি ও উপজেলা পর্যায়ে ৩৯৮টি নির্বাচন ভবন রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসগুলো দুটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। বর্তমানে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজ, ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাজের পরিধি ও সেইসাথে জনবল বাড়ায় এসব ভবনে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ফলে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান নিয়োগ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদনসহ প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে এবং প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনগুলোর অবস্থান হবে আট বিভাগের ১০টি অঞ্চলে। এর মধ্যে ঢাকায় একটি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। জেলা নির্বাচন ভবন তৈরি হবে শুধু ঢাকা, গাজীপুর ও মাদারীপুরে। অঞ্চল ও জেলাভিত্তিক উপজেলা নির্বাচন ভবন নির্মিত হবে ৪৫টি আর মেট্রোপলিটন থানায় ভবন নির্মাণ করা হবে ১৭টি।
নতুন ভবনের পরিকল্পনাধীন সব উপজেলাই নতুন; ফলে তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক নির্বাচন ভবন নেই। এসবের মধ্যে শুধু বিভাগীয় নির্বাচন ভবন হবে চারতলা। আর প্রতিটি উপজেলা আঞ্চলিক ভবন হবে তিনতলা। আয়তন পাঁচ হাজার বর্গফুট থেকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৮০০ বর্গফুট পর্যন্ত হবে। প্রতিটি ভবনের নিচতলায় রিসেপশন ছাড়াও গোডাউন থাকবে।
এদিকে মাঠ পর্যায়ের ৪৫৮টি কার্যালয় সম্প্রসারণের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ৩৯৮টি ভবনে ন্যূনতম ২০০০ বর্গফুট অতিরিক্ত অফিস জায়গা সম্প্রসারণ এবং যেখানে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ সম্ভব নয় সেখানে আনুভূমিক এবং বর্ধিত আনুভূমিক অংশটুকুতে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। জেলা পর্যায়ে ৫১টি জেলা সার্ভার স্টেশন ও নয়টি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে জেলা সার্ভার স্টেশনগুলো বর্তমান স্পেসের চেয়ে অতিরিক্ত দুটি ফ্লোর এবং আঞ্চলিক সার্ভার স্টেশনসমূহ বর্তমান স্পেসের চেয়ে অতিরিক্ত দুটি ফ্লোর বাড়ানো হবে। সবমিলিয়ে যার জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
ইসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত সেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় সংস্থার অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়বে, সেবা গ্রহণকারী নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে।