ঢাকা রবিবার, ৩১শে মে ২০২৬, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


পশ্চিমবঙ্গে ‘আটকের আতঙ্ক’, দেশে ফিরতে সীমান্তে হাজারো মানুষের ঢল


প্রকাশিত:
৩০ মে ২০২৬ ১৫:২৭

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে শনাক্ত ও বহিষ্কারের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ ভারতের সীমান্ত ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে ছুটছেন। সাতক্ষীরা ও উত্তর ২৪ পরগনা সীমান্ত এলাকায় প্রতিদিন ভিড় করছেন নিজ দেশে ফিরতে মরিয়া এসব মানুষ।

ক্ষমতার রদবদল ও পরিস্থিতির অবনতি
চলতি মে মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বসা নতুন সরকারের কঠোর অবস্থানে মূলত এই মানবিক সংকটের সূত্রপাত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেন। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, অবৈধপথে ভারতে আসা ব্যক্তিরা ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে গেলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হবে না। সরকারের এই দ্বিমুখী বার্তা ও কড়া নজরদারির মুখে পড়ে অভিবাসীদের মধ্যে রাতারাতি ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

সীমান্তে মানবিক বিপর্যয়
সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শত শত মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেরই নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র নেই। ফলে ভারত ছাড়ার প্রশাসনিক চাপের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার তাদের গ্রহণ করবে কি না—এই অনিশ্চয়তা তাদের আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

হাকিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুর গাজী জানান, “শুরুর দিকে দিনে ১০-১২ জন করে আসছিল, কিন্তু এখন প্রতিদিন এই সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।”

পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে অনেক পরিবার রাতের অন্ধকারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। যদিও এভাবে ঠিক কতজন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পেরেছেন, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান প্রশাসনের কাছে নেই।

আটক কেন্দ্র নিয়ে আতঙ্ক
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্বেগের বড় একটি কারণ হচ্ছে নতুন করে ‘ডিটেনশন সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র নির্মাণের খবর। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনিক অভিযানে ধরা পড়লে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারাবাস বা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হবে।

সীমান্তে কড়াকড়ি
অন্যদিকে, সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা নদীপথে অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, দেশভাগের পর থেকেই সীমান্ত অঞ্চলে জনসংখ্যা স্থানান্তর ও কর্মসংস্থানের কারণে এই সমস্যা চলে আসছে। তবে বর্তমানের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট নিরসনে কেবল একক প্রচেষ্টা নয়, বরং দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সমন্বিত ও মানবিক উদ্যোগ প্রয়োজন। আইনি জটিলতায় আটকা পড়া এই হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।