ঢাকা রবিবার, ৩১শে মে ২০২৬, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


নবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো লিজেন্ড কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট–২০২৬


প্রকাশিত:
৩০ মে ২০২৬ ১৩:৫৪

“বয়স নয়, জীবনের মান বাড়াও, ভালো বন্ধুদের সাথে জীবন কাটাও”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে লিজেন্ড কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট–২০২৬।

নবাবগঞ্জ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্রিকেটপ্রেমীরা। এছাড়াও কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত নবাবগঞ্জের অনেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমী এই আয়োজনে অংশ নিতে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন।

খেলাকে ঘিরে স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী দর্শক, ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় মানুষজন মাঠে ভিড় জমাতে শুরু করেন। খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য শুধু খেলাধুলার আয়োজন নয়; বরং তরুণ সমাজকে সুস্থ বিনোদন, সামাজিক সম্প্রীতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত করা। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণদের মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন আয়োজকরা।

নবাবগঞ্জ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে তরুণ-যুবকেরা খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করবে, সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করবে এবং মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম উপাদান।”

এ প্রসঙ্গে শওগুন খোলা আদর্শ সমাজ কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি সাইদুর রহমান সুমন বলেন, “নবাবগঞ্জের চারপাশে আজ ভয়াবহভাবে মাদকের বিস্তার ঘটছে। যুবসমাজের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে এই মরণনেশার কবলে পড়ছে। মাদক নির্মূল করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলেই হবে না; পরিবার, সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। ঘরে ঘরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখাই এখন সময়ের দাবি। আমরা আশা করি, এ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করেন, এমন আয়োজন শুধু একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়; বরং এটি তরুণ সমাজকে সুস্থ, সচেতন ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি সামাজিক উদ্যোগ। তাদের মতে, খেলাধুলার প্রসার বাড়লে তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকশিত হবে এবং ধীরে ধীরে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় কমে একটি সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে।