ঢাকা রবিবার, ৩১শে মে ২০২৬, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


বিমানবন্দরগুলোর ব্যবসায়িক স্থান ইজারা পেতে আবেদনের হিড়িক


প্রকাশিত:
৩০ মে ২০২৬ ১৩:৪৮

দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আবারও সম্পত্তি ইজারা কার্যক্রম শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নীতিমালা নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের মধ্যকার জটিলতা নিরসন হওয়ায় ইজারা কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। এই সুযোগে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ব্যবসায়িক স্থান ইজারা পেতে আগ্রহীদের মধ্যে আবেদনের হিড়িক পড়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যবসায়িক স্থান বরাদ্দ পেতে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়েছে। বর্তমানে এসব আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস) মেহবুব খান বলেন, “আমরা ইজারা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করেছি। বিপুল পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। আশা করছি, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় নতুন একটি ইজারা নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। তবে তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর ইজারা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ছিল। মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিলে বেবিচকের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ তৈরি হয়। বেবিচকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, প্রস্তাবিত নতুন খসড়ার কিছু ধারা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক অডিটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১৭ অনুযায়ী সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার যে এখতিয়ার বেবিচকের রয়েছে, নতুন খসড়ায় তাতে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীরা আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল, নতুন নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের মতামতের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি।

বিমানবন্দরগুলোর সম্পত্তি ইজারা বেবিচকের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে জটিলতা নিরসন হওয়ায় বর্তমানে ইজারা কার্যক্রম পুরোপুরি বেবিচকের নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছে। কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন করে ইজারা কার্যক্রম চালু হওয়ায় বিমানবন্দরের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং বেবিচকের রাজস্ব আয় আরও সুসংহত হবে।