কাজ সম্পন্ন না করেই লাপাত্তা ঠিকাদার; দূর্ভোগে ইউনিয়নবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার একটি বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত ইউনিয়ন গোয়ালনগর। ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিচ্ছিন্ন হাওর বেষ্টিত গোয়াল নগর ইউনিয়ন পরিষদ ও গোয়াল নগর বাজার (আইডি- ৪১২৯০৩০০২) দুই কিলোমিটার সাবমার্সিবল রাস্তা নির্মাণ ও ৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ৪ কোটি টাকার টেন্ডার হয় ২০২৩ সাল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি।টিকাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে অসহায় উপজেলা ও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়।
অবহেলিত, অনুন্নত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ইউনিয়নটির ১৪টি গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ লাঘবে বন্ধ থাকা রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজটি দ্রুত চালু করা জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সংস্কার কাজ সম্পন্ন হতে বিলম্ব হওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মুহাম্মদ কামাল হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান–ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারণেই এমন জনদূর্ভোগ তৈরী হয়েছে। তাদের অবহেলার জন্যই মূলত সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়নি। এমনকি বিভিন্ন ছলচাতুরীর মাধ্যমে চাতলপাড়ের নাইন ব্রিজ প্রকল্পে ও দূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর এমন দূর্দশা দেখে আমরা বারবার নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশল অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেও কোন প্রতিকার পায়নি।বর্ষাকালে পুরো এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায় বিধায় অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে হলে শুকনো সময়েই করার দাবী এলাকাবাসীর।
এমতাবস্থায় গত ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে সংস্কার কাজের দ্রুত করণীয় নির্ধারণের জন্য নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসনসহ, নাসিরনগর উপজেলা আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিষদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় বরাবর পত্র প্রদান করলে গত ১৯ মার্চ টিকাকারী প্রতিষ্ঠান 'মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাঃ লিঃ, পাঁচলাইস চট্টগ্রামকে কাজ বাস্তবায়নে ধীর গতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এর বিহিত ব্যবস্থা করতে একটি পত্র পেরণ করা হয়।এ পত্রে স্কীমটি সম্পন্ন অথবা বাতিল করতে বলা হয়।
নাসিরনগর উপজেলার বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত একটি ইউনিয়ন গোয়ালনগর।অত্র ইউনিয়নের ভিটাডুবি, রামপুর, নওগাঁ, মাইজখোলা, কদমতলী, ঝামারবালী, লালুয়ারটুক সহ পুরো ইউনিয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। হাওরের বিচ্ছিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা বর্ষাকালে নৌকার ওপর নির্ভরশীল। শুকনো মৌসুমে নদীর পাড় ও ক্ষেতের আইল দিয়ে হাঁটা ছাড়া তাদের কোন উপায় থাকে না। এ কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এলাকার লোকজনের বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই। শুষ্ক মৌসুমে কখনো ঝড় তুফান, খর রৌদ্র, কখনো বৃষ্টিজনিত কারনে ২/৩ কিঃমিঃ কাঁদা রাস্তা দিয়ে হেঁটে খেয়া পাড় হয়ে শিক্ষার্থীরা অনেকেরই যেতে হয় কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। আর বর্ষাকালে নদীর ঢেউ আর স্রোতে কতটা ভয়ংকর পরিস্থিতির স্বীকার হয় কোমলমতি হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা কেবল ভুক্তভোগীরাই বলতে পারে। হাওড় ও নদী বেষ্টিত ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা নৌকা ডুবে মৃত্যুর আশংকা নিয়েই বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। চৈত্রের খরা রৌদ্র, বর্ষার উত্তাল ঢেউ, অভাব অনটন আর হাজারো রকমের ঝুঁকি ঝামেলার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে যাওয়া হয় না। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে শিশুসহ কোমলমতি সকল ছাত্র-ছাত্রী নিজ উপজেলার গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারত। যোগাযোগ অব্যবস্থাপনার কারনে মৌলিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা বাল্য বিয়ের শিকার হচ্ছে। এমনকি সামাজিক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে যোগাযোগ সমস্যার কারণে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত গোয়ালনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। একে তো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অপ্রতুলতা, তার উপর জরুরি চিকিৎসার জন্য উপজেলা বা জেলায় যাওয়ার কোন রাস্তাঘাট নেই। ফলে গর্ভবতী নারীসহ, শিশু-বয়স্ক-বৃদ্ধ সবাই থাকে জীবনের ঝুঁকিতে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ এই ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনই না নিলে আইন শৃঙ্খলা এবং অন্যান্য সকল প্রকার উন্নয়ন প্রচেষ্টা আরও শোচনীয় পর্যায়ে নেমে আসার আশংকা এলাকার সচেতন মহলের । এমতাবস্থায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এসব সমস্যা থেকে মুক্তিসহ সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে পড়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের লোকজনের কর্মসংস্থান সহ শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায় আরও পিছিয়ে যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।