ঢাকা মঙ্গলবার, ৯ই জুন ২০২৬, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


লিংকে ক্লিক করলেই খোয়া যাবে সব, বিশেষ সতর্কবার্তা জারি বিআরটিএর


প্রকাশিত:
৯ জুন ২০২৬ ২০:২১

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বকেয়া জরিমানা পরিশোধের নামে সাধারণ নাগরিকদের মুঠোফোনে ভুয়া বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এর আদলে হুবহু জাল ওয়েবসাইট তৈরি করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

সম্প্রতি দেশের সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষকে সচেতন করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিআরটিএ জানিয়েছে, অসাধু এই চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ‘ট্রাফিক জরিমানার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিজ্ঞপ্তি’, ‘স্পিডিং ফাইন বকেয়া রয়েছে, দ্রুত পরিশোধ করুন’ কিংবা ‘আপনার বকেয়া জরিমানা আছে’—এ ধরনের প্রলুব্ধকর ও ভীতিমূলক বার্তা পাঠাচ্ছে। মেসেজের সাথে তারা ‘bsbrtcar-bdpay.sbs’, ‘bspbrtcar-govbd.online’, ‘bspbrtn-gov.cc’ সহ বেশ কিছু ফিশিং লিংক পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এই লিংকগুলোতে ক্লিক করলে বিআরটিএর আসল পোর্টালের মতো দেখতে একটি পেজ ওপেন হয়। সেখানে তথ্য প্রদান করলেই ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন বা ওটিপি চুরি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

বিআরটিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের প্রকৃত সার্ভিস পোর্টালের লিংক হলো bsp.brta.gov.bd। এর বাইরে অন্য কোনো লিংকের সাথে কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক না করা এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য চিঠিতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের মেসেজ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা বা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, এই প্রতারণার ধরন দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তিনি মনে করছেন, এটি কোনো সাধারণ বাল্ক এসএমএস নয়; বরং যাদের নামে গাড়ি নিবন্ধিত রয়েছে, তাদেরই সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়, বিআরটিএর যানবাহন নিবন্ধন-সংক্রান্ত ডেটাবেজ কোনোভাবে ফাঁস হয়েছে। কারণ, গাড়ি মালিকদের কাছেই কেবল এই নিখুঁত বার্তাগুলো যাচ্ছে। বিআরটিএর অটোমেশন সিস্টেম এবং এর কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

জোহা আরও যোগ করেন, “ফিশিং লিংকের মাধ্যমে অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। আমাদের সাইবার সক্ষমতা যথেষ্ট। সঠিক কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে এসব জালিয়াত চক্রের মূল উৎস ও সার্ভার শনাক্ত করা সম্ভব।”

বিআরটিএর চিঠি পাওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তথ্য চুরি হলে পরবর্তীতে বড় ধরনের জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে বিধায় এই সতর্কতা।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিআরটিএর উচিত তাদের অনলাইন সিস্টেমের নিরাপত্তা দুর্বলতা (ভালনারেবিলিটি) দ্রুত পরীক্ষা করা এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানো। নাগরিকদের প্রতি তাদের পরামর্শ—অপরিচিত কোনো উৎস থেকে আসা লিংকে ক্লিক করবেন না এবং ওটিপি বা পিন নম্বর কখনোই কারো সাথে শেয়ার করবেন না।