রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড: আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এল গা শিউরে ওঠা বর্ণনা
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার সেই লোমহর্ষক মামলার রায় আজ। আজ রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করবেন। দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।
গত ২ জুন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালতজুড়ে এক অভূতপূর্ব শোকাবহ ও থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁদের বর্ণনায় উঠে আসে শিশু রামিসার ওপর চালানো মধ্যযুগীয় বর্বরতার চিত্র।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. ইকবাল হোসেন। তিনি আদালতকে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দেখেন শিশুটির দেহ খাটের নিচে পড়ে আছে, আর বিচ্ছিন্ন মাথাটি পাশের একটি বালতির ভেতর পানির মধ্যে রাখা হয়েছে। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে শিশুটির শরীর থেকে মাথা ও হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এমনকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার যৌনাঙ্গও ক্ষতবিক্ষত করা হয়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. নাসাদ জাবিন আদালতকে জানান, রামিসার নাক ভাঙা ছিল, ঠোঁট কাটা এবং মুখে নখের আঁচড় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টে মৃত্যুর আগে তাকে পাশবিক ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং গলা বিচ্ছিন্ন করার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীতে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ঘরে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় রামিসা। ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার জানান, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি সোহেলদের তালাবদ্ধ দরজায় বারবার ধাক্কা দিলেও তারা দরজা খোলেনি। পরে রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা অফিস থেকে ফিরে হাতুড়ি দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। বাথরুমে রক্ত দেখে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খাটের নিচে রামিসার খণ্ডিত দেহ এবং বালতিতে কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে জানান, আসামিরা শিশুটিকে ধর্ষণের পর জ্ঞান হারালে তাকে মৃত ভেবে লাশ গুমের চেষ্টা করে। আলামত নষ্ট করতে তারা রক্ত ধুয়ে ফেলার চেষ্টাও করেছিল। রামিসার মা বাইরে থেকে বারবার আকুতি জানালেও আসামিরা তখন ভেতরে লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করতে ব্যস্ত ছিল।
গত ১৯ মে হত্যাকাণ্ড এবং ২০ মে মামলা হওয়ার পর মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে তদন্ত, চার্জশিট এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়েছে। আইনি ইতিহাসে এত দ্রুততম সময়ে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ঘটনা বিরল। রাষ্ট্রপক্ষ এবং সাধারণ মানুষ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছেন।
