সাভারে চলন্ত বাসে ফের ডাকাতি

সাভারে আবারও ‘ইতিহাস পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা যাত্রীবেশে বাসে উঠে দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ব্যাংক টাউন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার যাত্রী টুনি সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
আটক দু’জন হলেন বাসচালক রজব আলী (৩০) এবং সহকারী এমদাদুল হক (৪০)। এছাড়া ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত ‘ইতিহাস পরিবহন’ বাসটিও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে মিরপুরগামী ‘ইতিহাস পরিবহন’-এর বাসটি কর্ণপাড়া ব্রিজ (ব্যাংক টাউন) এলাকায় পৌঁছালে চালকসহ আরও চারজন যাত্রীদের দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। এরপর সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় বাসটি থামিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী যাত্রী সুমন সরকার জানান, ‘আমি চন্দ্রা থেকে বাসে উঠি। উলাইল এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ছুরি বের করে যাত্রীদের জিম্মি করে। তারা আমার কাছে থাকা ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অন্যান্য যাত্রীদের কাছ থেকেও স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিস লুটে নেয়।’
থানায় লিখিত অভিযোগে বাসযাত্রী টুনি বলেন, ‘বিকেলে মিরপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে চন্দ্রা থেকে বাসে উঠি। কর্ণপাড়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে চালকসহ আরও চারজন আমার গলায় সুইস গিয়ার ঠেকিয়ে চার আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। একইভাবে অন্য যাত্রীদের কাছ থেকেও মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এরপর ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে বাস থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।’
তবে আটক বাসচালক রজব আলী দাবি করেন, ‘বাসে ওঠা কয়েকজন হঠাৎ অস্ত্র বের করে যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতি চালায়। এরপর ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বাসে ভাঙচুর করে। আমি ও সহকারী ভয় পেয়ে সড়কের পাশে লুকিয়ে পড়ি।’
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহীনুর কবির জানান, ‘বাসে ডাকাতির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসচালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, এই একই এলাকায় ও একই কায়দায় ইতোমধ্যেই অন্তত সাতবার চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো ডাকাতকে আটক কিংবা লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি।