ঢাকা মঙ্গলবার, ৯ই জুন ২০২৬, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


কীটনাশকের মেয়াদ জালিয়াতি: মাগুরায় সাহা ট্রেডার্সকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা, দোকান বন্ধের নির্দেশ


প্রকাশিত:
৯ জুন ২০২৬ ১৫:৪৬

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর বাজারে মেসার্স সাহা ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশকের মেয়াদ মুছে দিয়ে ২০২৭ সাল লিখে বিক্রি এবং নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে জনস্বার্থে দোকানটি আগামী ৭ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (বা নির্দিষ্ট বার) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, বিনোদপুর বাজারের মেসার্স সাহা ট্রেডার্সে তদারকিকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুকৌশলে জালিয়াতি করে আসছিল। তারা ২০২৪ সালে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কীটনাশকের বোতল ও প্যাকেটে আসল মেয়াদ মুছে দিয়ে নতুন করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মেয়াদের সিল মেরে সাধারণ কৃষকদের কাছে বিক্রি করছিল। শুধু তাই নয়, ২৩০ টাকার কীটনাশক তারা বিক্রি করছিল ২৮০ টাকায়। এছাড়া বিভিন্ন বেনামি কোম্পানির অননুমোদিত ও নিম্নমানের ধানের বীজ এবং কীটনাশক সংগ্রহ করে নিজেরা ভুয়া সিল মেরে তা খাঁটি পণ্য হিসেবে বাজারজাত করছিল।

অভিযান চলাকালে উপস্থিত একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতারিত হয়ে আসছিলেন। এই নিম্নমানের বীজ ও মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহার করে অনেক কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় এমন গুরুতর অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক সমীর কুমার সাহাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ও ৫১ ধারায় মোট ৭৫,০০০ (পঁচাত্তর হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোকানটি ৭ দিনের জন্য সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ বলেন, "কৃষকদের সাথে এমন প্রতারণা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য নতুন মেয়াদে বিক্রি করা এবং অননুমোদিত বীজ বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জনস্বার্থে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

অভিযানকালে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন মাগুরা জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার মো: শাহীন ইসলাম, স্টাফ কারিমুল ইসলাম এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম। পরবর্তীতে ওই এলাকার অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানেও তদারকি করা হয় এবং ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।