সংবাদ সংগ্রহ করতে কি মেম্বারের অনুমতি প্রয়োজন? হত্যার সংবাদ প্রকাশে বাধা নিয়ে প্রশ্ন
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর জাঙ্গালঘাটা গ্রামে গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার মোহনা নিহতের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাপ্তাহিক সকালের দিগন্ত’র স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি ফারহান ইসলাম রাজু। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ঘটনাস্থলে সরাসরি সম্প্রচার ও সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকজন যুবক তাকে বাধা দেন। তারা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির অনুমতি ছাড়া লাইভ সম্প্রচার করা যাবে না বলে দাবি করেন। সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে কারও অনুমতির প্রয়োজন হয় না জানালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করেন এবং তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ঘটনাস্থলে থাকা গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লক্ষীপাশা ইউনিয়নের সদস্য জামিল আহমদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কে বা কারা আমার নাম ব্যবহার করেছে, সেটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ ব্যাপারে এএসপি সার্কেল মো. শাহ আলম বলেন, ভুক্তভোগীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা কেন সংবাদকর্মীদের সংবাদ প্রকাশ ও সরাসরি সম্প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে দাবি করছেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি সামনে আনা হলেও ঘটনাটি যৌতুকসংক্রান্ত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে এসব দাবি ও অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি।
