ফতুল্লায় চাঁদা না পেয়ে ৩ জনকে কুপিয়ে জখম, পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তিন ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ সাব্বির ও তার বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় মাদকসহ সাব্বিরের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই ফতুল্লার শীর্ষ মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ সাব্বির ওই এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। শনিবার রাতে সাব্বির ও তার সহযোগীরা ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদার জন্য চাপ দেয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা বাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা কুদরত, মিজান ও জনি বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় সাব্বির বাহিনী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা উল্টো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই সুযোগে সাব্বিরসহ মূল অপরাধীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর চাঁদাবাজ সাব্বিরের বসতবাড়িতে অভিযান চালায় ফতুল্লা থানা পুলিশ। অভিযানে সাব্বিরের স্ত্রী অন্তরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছে থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, “সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সাব্বির ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। আমরা তার স্ত্রীকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অপরাধী সাব্বিরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই সন্ত্রাসী হামলার পর মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে সাব্বিরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
